লালমনিরহাট বার্তা
পরিবেশ বিরোধী অভিযান সহ প্রায় সকল কার্যক্রম বন্ধ
রংপুর অফিস | ৫ জুন, ২০২২ ১১:৪৭ AM
পরিবেশ বিরোধী অভিযান সহ প্রায় সকল কার্যক্রম বন্ধ
রংপুর পরিবেশ অধিদফতর বিভাগীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম স্তবির হয়ে পড়েছে জনবল সংকটের কারণে । জনবল আছে তিন ভাগের এক ভাগ। তার ওপর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ডেপুটেশনে যাওয়ায় পরিবেশ বিরোধী অভিযান সহ প্রায় সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিচালক, উপপরিচালকসহ জনবল থাকার কথা ২৬ জন। কাগজে কলমে আছেন নয় জন। কার্যালয়ে কর্মরত আছেন ছয় জন। কার্যালয়ের প্রথম শেশ্রণীর ম্যাজিস্ট্রেট সহ তিন জন প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৩ পদে জনবল নেই। সবমিলে ১৭ জন কর্তা শুন্যে।
অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুমোদিত জনবল অনুযায়ী কার্যালয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের পদ একটি। এই পদে দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী রাজীব মাহমুদ। কিন্ত তিনি প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন পরিবেশ অধিদফতরের ঢাকা সদর দফতরে। এ কারণে অভিযান পরিচালনা বন্ধ হয়ে গেছে। একমাত্র ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পাবনায়। অফিস সহায়ককে দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে এই পদগুলোতে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র কেমিস্ট, জুনিয়র কেমিস্ট, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, সিনিয়র টেকনিশিয়ান, সাঁট লিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, স্টোরকিপার, প্রসেস সার্ভার, অফিস সহায়ক, পরিচছন্নতা কর্মী, নমুনা সংগ্রহ সহকারীর দুটি, নিরাপত্তা প্রহরীর দুটি এবং পরিদর্শকের তিনটি পদ শূন্য রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, পরিবেশ অধিদফতরকে শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষণ জরিপ, দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণসহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, প্রয়োজন অনুসারে বিধি লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, মামলা দায়ের, পরিবেশ দূষণকারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, শিল্প কারখানা পরিদর্শন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান, পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, বিভিন্ন এলাকার পুকুর, টিউবওয়েল ও খাবার পানির গুণগত মান নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত নমুনা সংগ্র, পরিবেশগত গণসচেতনতা সৃষ্টি, জীববৈচিচ্র্য সংরক্ষণ ও জীব নিরাপত্তায় কার্যক্রম গ্রহণ, পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভিন্ন প্রকল্প ও গবেষণাকর্ম গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন, নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিন, শপিং ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সহ পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ নিয়মিত পরিচালনা করতে হয়।
রংপুর বিভাগের আট জেলায় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইটভাটা রয়েছে ৯৫৩টি। এর মধ্যে অবৈধ ইটভাটা ৮১৯টি। অটোরাইস মিল আছে ৫২১টি। এর মধ্যে কিছু অবৈধ।
বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জনবলের অভাবে অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা কিংবা পরিবেশ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতর ২০২১ সালে ১১০টি অবৈধ ইটভাটায় ২৪টি অভিযান পরিচালনা করে চার কোটি পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং চলতি বছর ৩২টি ইটভাটায় পাঁচটি অভিযান চালিয়ে এক কোটি ৪২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের কার্যালয়ে এক্সকাভেটর মেশিন নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় অবৈধ ইটভাটা কিংবা পরিবেশের ক্ষতিকারক অবৈধ কোনও স্থাপনা উচ্ছেদ করতে এক্সকাভেটর মেশিন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে এক্সকাভেটর ভাড়া করতে হয়।
রংপুর বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেন বলেন,পরিবেশ অধিদফতরের কাজ অনেক। বিভাগীয় কার্যালয়ে জনবল থাকার কথা ২৬ জন, আছেন ছয় জন। কার্যালয়ের একমাত্র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থেকেও নেই। আমাদের নিজস্ব এক্সকাভেটর যন্ত্র নেই। ভাড়া নিয়ে অভিযান চালাতে হয়। এসব প্রতিকূল অবস্থায় পরিবেশ সংরক্ষণে রংপুর বিভাগে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এই বিভাগের আরও খবর