লালমনিরহাট বার্তা
ধানে অধিক ফলন রংপুর বিভাগের চাষীরা লাভবান হচ্ছে
রংপুর অফিসঃ | ১৭ মে, ২০২২ ১০:০২ AM
ধানে অধিক ফলন রংপুর বিভাগের চাষীরা লাভবান হচ্ছে
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বঙ্গবন্ধু-১০০ (ব্রিধান ১০০) ধানের চলতি বোরো মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে ফলন ভালো হওয়ায় রংপুর বিভাগের চাষীরা লাভবান হচ্ছে। তারা এখন আনন্দে উচ্ছসিত হয়েছে।এই জাতের ধান জিংক সমৃদ্ধ পুষ্টিগুন সম্পন্ন এবং উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় এর রোগ বালাই কম থাকায় চাষীরা অধিক লাভ করতে পারবেন । তারা এই ধান চাষের ১৪৮ দিনের মধ্যে ঘরে তুলতে পারবেন। এ ধানের চালের আকৃতি মাঝারি চিকন, পুষ্টিগুনে ভরা ও খেতে সুস্বাদু। বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের ধানের ভালো ফলন হওয়ায় আশাবাদি হয়ে উঠেছেন চাষীরা।
বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষিকীতে ব্রি-ধান ১০০ জিংক সমৃদ্ধ এই ধান আবিষ্কার করে ”বঙ্গবন্ধু-১০০” নাম দিয়ে ধানটির পরীক্ষামূলক চাষাবাদও শুরু করেন রংপুর অঞ্চলের চাষীরা। কৃষি বিভাগ ও হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের সহায়তায় এ বছর গঙ্গাচড়া উপজেলায় এক একর জমিতে ‘বঙ্গবন্ধু-১০০’ ধান প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের মাধ্যমে চাষ করা হয়। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া সদরের কৃষক আলা মিয়ার ৩৩ শতাংশ জমিতে একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছিল । উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্বাবধানে প্রদর্শনী প্লটে ধানটির বেশ ভাল ফলন হয়েছে বলে জানান কৃষক আলা মিয়া।
গত বুধবার দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় বোরো ধান বীজ বঙ্গবন্ধু (ব্রিধান ১০০) ধান ক্ষেত ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক মতিউর রহমানের জমিতে বোরো ধান বীজ বঙ্গবন্ধু (ব্রিধান ১০০) ধান ক্ষেত সরজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় বিএডিসি-ঢাকা এর যুগ্ম পরিচালক (মাননিয়ন্ত্রণ) সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, বিএডিসি দিনাজপুর এর বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক (বী.প্র.) ডক্টর মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক (সার) মোশাব্বের হোসেন, যুগ্ম পরিচালক (পাট বীজ) ডক্টর সুলতানুল আলম, বিএডিসি কন্টাক্ট গ্রোয়ার্স দিনাজপুর এর উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার, উপ পরিচালক (বি.বি.) আব্দুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জানানো হয় চলতি মওসুমে বঙ্গবন্ধু-১০০ ধান ১৬০ মেট্রিক টন বীজ উৎপন্ন হয়েছে এবং আগামীতে ১০ হাজার মেট্রিক টন উৎপন্ন করা হবে। পাশাপাশি ধানটি চিকন ও ভাত সুস্বাদু হওয়ায় এটি ব্যপক জনপ্রিয়তা অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার ১৩ একর জমিতে নতুন এ জাতের ধানটি চাষ করেছেন ৩৯ জন চাষী। রোগ বালাই মুক্ত এবং সাধারণ পরিচর্যায় বঙ্গবন্ধু ধান হেক্টর প্রতি উৎপন্ন হয়েছে ৬ থেকে ৭ মেট্রিকটন। ভালো ফলন হওয়ায় এই ধান চাষ করে রংপুর অঞ্চলের চাষীরা উচ্ছসিত। জেলার উলিপুর উপজেলার অর্জুনডারা এলাকার চাষী মিজানুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় এক একর জমিতে বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের ধান চাষ করেছে। ধান ক্ষেতে কোনো রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে। ধান অনেকটা চিকন হওয়ায় বাজার মূল্যও ভালো পাওয়া যাবে। রাজারহাট উপজেলার কাশেম বাজার এলাকার আবুল কাশেম জানান, নতুন জাতের এই ধান দেড় একর জমিতে চাষ করেছে। অর্ধেক ধান কেটে ঘরে তুলেছি। ২৮ জাতের ধানের থেকে অনেকটাই ভালো ফলন পেয়েছে। ২৮ জাতের ধানের চেয়ে এই ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মন ধান বেশি ধান উৎপন্ন হয়েছে। আগামী মৌসুমে তাঁর সব জমিতে বঙ্গবন্ধু ধান চাষ করার আশা।
উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, এই জাতের ধানের ফলন অন্য জাতের ধানের চেয়ে বেশি হয়েছে। এ কারণে আগামী মৌসুমে চাষীদের বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। হারভেস্ট প্লাসের কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা রুহুল আমিন মন্ডল জানান, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান থেকে নিজেরাই বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন। হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশে-এর ক্যান্ট্রি ম্যানেজার ডক্টর খায়রুল বাসার জানান, সারা দেশে বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের ধান চাষ ছড়িয়ে দিতে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। চাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবসসহ ধান কাটার উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এমদাদ হোসেন শেখ জানান, জিংক সমৃদ্ধ এ ধানের উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। এবারই প্রথম রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় এই ধানের চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য জাতের ধানের চেয়ে এর ফলন অনেক ভালো। এই ধান চাষে চাষীরা বেশী লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদাও মেটানো সম্ভব হবে বলে তিনি
এই বিভাগের আরও খবর