লালমনিরহাট বার্তা
হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন তিন বছর যাবৎ নষ্ট বন্ধ হয়ে আছে চিকিৎসা ব্যবস্থা
রংপুর অফিস | ৩১ মার্চ, ২০২২ ১২:০৬ PM
হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন তিন বছর যাবৎ নষ্ট বন্ধ হয়ে আছে চিকিৎসা ব্যবস্থা
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন তিন বছর আগে নষ্ট হওয়ায় বন্ধ হয়ে আছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। দীর্ঘদিনেও নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন না আনায় ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসা প্রত্যাশী হাজার- হাজার রোগী। হাসপাতালে ভর্তি মুমূর্ষু রোগীদের প্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করাতে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতে রোগীর স্বজনদের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কবে নাগাদ রমেক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন আসবে তা সঠিকভাবে জানাতে পারেনি।দীর্ঘদিনেও হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন পুনঃস্থাপন না হওয়ায় দরিদ্র অধ্যুষিত রংপুর বিভাগের চিকিৎসা প্রত্যাশি মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি জটিল রোগে আক্রান্ত নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীর স্বজনরা জানান, রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করার চিকিৎসা পত্র দেন। কিন্তু হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট থাকায় বিপত্তিতে পড়তে হয়। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে পরীক্ষার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে স্বজনরা ব্যর্থ হয়েছেন। এখন বিষয়টি অনেকটা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এভাবেই হাসপাতালে ভর্তি জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকে চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে সিটি স্ক্যান করাতে নিয়ে যেতে অধিকাংশ সময় নানান ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্বজনরা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে সর্বশেষ সিটি স্ক্যান হয়েছে তিন বছর আগে। দুটি সিটি স্ক্যান মেশিনের মধ্যে ফিলিপস কোম্পানির ৬৪ ¯øাইস মডেলের সিটি স্ক্যান মেশিন আগে বিভিন্ন কারণে নষ্ট-ভালো হলেও সর্বশেষ এটিকে পুরোপুরি বিকল ঘোষণা করা হয় ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ।মেসিনটি স্থাপন করা হয়েছিল ২০১২ সালের ২ মার্চ। সিমেন্স কোম্পানির সিঙ্গেল ¯øাইস মডেলের দ্বিতীয় সিটি স্ক্যান মেশিন পুরোপুরি বিকল হয়েছে ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট। এটি স্থাপন করা হয় ২০০৬ সালের ৯ জুলাই। এ মেসিনও বেশ কয়েকবার মেরামত করে চালানো হয়েছিল। সিটি স্ক্যান বন্ধ হওয়ার আগে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে সিটি স্ক্যান করতে আসত।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ নাজমুন নাহার সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, মেশিন নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে সিটি স্ক্যান বন্ধ আছে। তিনি বলেন, মেশিনারিজ জিনিস যেকোনো মুহূর্তে খারাপ হতে পারে। তবে সিটি স্ক্যান মেশিনগুলো সম্পর্কে সব সময় তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে আসছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের প্রধান ডাঃ মোঃ মোরশেদ আলী বলেছেন, গুরুতর রোগীদের জটিল রোগ নির্ণয় করতে সিটি স্ক্যান করা খুবই জরুরি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম বলেছেন, সিটি স্ক্যান মেশিন সংস্কার বা মেরামত করে চালানোর অবস্থায় নেই। অত্যান্ত ব্যয় বহুল হয়ায় নতুন মেসিন স্থাগপনের চাহিদা বরাদ্দ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এই বিভাগের আরও খবর