লালমনিরহাট বার্তা
বিজ্ঞান সম্মতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি সংগ্রাম পরিষদের
বিশেষ প্রতিনিধিঃ | ৫ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৪৯ AM
বিজ্ঞান সম্মতভাবে  তিস্তা মহাপরিকল্পনা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি সংগ্রাম পরিষদের
৪ অক্টোবর ২০২১।কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার গড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তার ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির ও স্হানীয় নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ এলাকাটি পরিদর্শন করে নতুন কথার প্রতিনিধিকে জানান, ব্যাপক ভাঙন হয়েছে ওই এলাকায়।এখনো ভাঙন চলছে। ভাঙনে ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামের বেশ কয়েকটি পাড়া-মহল্লা তিস্তার পেটে চলে গেছে।এক হাজারের বেশি কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি- সড়ক পাগলা তিস্তা খেয়ে ফেলেছে।দেড়হাজার হেক্টরের ফসলিজমি,০৫ টি মসজিদ,৪০-৫০ টি কবর তিস্তায় বিলীন হয়েছে।সদ্য প্রয়াত হয়েছিলেন ভাঙন কবলিত গ্রামের ছাবেদ আলী। সহধর্মিণী আমেনা বেগম মৃত্যু স্বামীর কবরটি রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন।আহাজারি করেছেন।শেষ রক্ষা হয়নি। গ্রামের একটি সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ভাঙনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। গ্রামটির বিশাল এলাকা এখন নদীগর্ভে। নদীগর্ভে চলে গেছে বিদ্যুতের শতশত খুটি। গ্রামের অবশিষ্ট অঞ্চলটিও রয়েছে ভাঙনের ঝুকিতে।
ভাঙনে মানুষ হয়েছেন ঘরহারা-ভিটাহারা-উদ্বাস্তু।হয়েছেন নিজ দেশেই " তিস্তা শরণার্থী "। আশ্রয় নিয়েছেন আশপাশের উপজেলা সহ দেশের নানা প্রান্তে।পাল্টে গেছে ওদের আপন ঠিকানা- পরিচয়পত্র।
এলাকাটি পরিদর্শন শেষে ভুক্তভোগী মানুষদের সাথে পৃথক পৃথক দুটি মতবিনিময় সভায় কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসী অভিযোগ করে নেতৃবৃন্দকে বলেন, ' ভাঙন ঠেকাতে গ্রামবাসী বাঁশের বান্ডাল তৈরি করে কিনারের পানির স্রোতকে নদীর মধ্যস্থলে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। সফল হননি।তিস্তার কিনার থেকে দু'বছর আগে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে তিস্তার তীরবর্তী গ্রামে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়,বর্ষার পানি তিস্তার মধ্যস্থল দিয়ে প্রবাহিত হয় না।খাদ দিয়ে পানি ছুটে আসে তিস্তার কিনারের জনপদে।গতিহারা তিস্তা এ কারণেই ভেঙে ফেলেছে গতিয়াশাম গ্রামটিকে।ভাঙন ঠেকাতে গ্রামবাসীদের সৃষ্ট "বান্ডাল প্রযুক্তির" কাজের সাথে স্হানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে সাময়িক কালের জন্য হলেও সর্বনাশা ভাঙনের হাত থেকে গ্রামটিকে রক্ষা করা যেতো।
১৫ নভেম্বর তিস্তা ব্রিজ অভিমুখের লংমার্চের খবর এলাকার মানুষের মুখেমুখে। সবাই জেনেছেন এ খবর।প্রতিমুহূর্ত ভাঙনে আতঙ্কিত মানুষের দাবি একটাই- তারা চান তিস্তার ভাঙনের স্হায়ী সমাধান।চান তিস্তা খনন ও শাসন।বিঙান সম্মতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন।এটা করা না গেলে এ সমস্যার সমাধান হবেনা।এলাকার আবেদ আলী বলেন,'দুই বছর থাকি শুনবার নাগছি তিস্তা খনন হইবে,শাসন করবে সরকার।কই তা হয়।"
মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, চীন-ভারত বুঝি না।চাই-পদ্মা সেতুর মতো নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা সুরক্ষা।তিস্তা আন্দোলনের ৬ দফার বাস্তবায়ন। ভাঙন কবলিত প্রকৃত মানুষের তালিকা প্রনয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।ভাঙন পীড়িত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের বরাদ্দ যাতে প্রাকৃতজনরাই পান,নয়-ছয় না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে বিঙান সম্মতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, তিস্তা চুক্তি সই, জলাধার নির্মাণসহ ৬ দফা দাবিতে ১৫ নভেম্বর "তিস্তা সেতু অভিমুখে লংমার্চ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচি " সফল করতে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন বলেন,তিস্তা সুরক্ষার কাজে সময় ক্ষেপণ হলে তিস্তা পাড়ের শত'শত
গ্রাম ভাঙনে বিলীন হবে।
এই বিভাগের আরও খবর