লালমনিরহাট বার্তা
মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির বকেয়া ২০৫.৮৬ কোটি টাকা
অনলাইন বার্তা ডেস্ক | ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১:৪৯ PM
মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির বকেয়া ২০৫.৮৬ কোটি টাকা
বিতর্কিত এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি এখন বলছে, তারা গ্রাহকদের পাওনা ৩১০ কোটি ৯২ লাখ টাকার বকেয়া ‘মুনাফা এবং কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ’ এর মাধ্যমে পরিশোধ করবে।

মার্চেন্টদের কাছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির প্রায় ২০৫.৮৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক কারণ দর্শানোর নোটিশের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের দেওয়া জবাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই জবাবে ইভ্যালি জানিয়েছে, তারা মার্চেন্টদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করছে। ইভ্যালিতে বিক্রি হওয়া পণ্য থেকে মার্চেন্টরা ১৫-২০ শতাংশ মুনাফা করেন।

তবে এই জবাবে, মার্চেন্টদের বকেয়া পরিশোধের সময়সীমার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেনি ইভ্যালি।

বিতর্কিত এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি এখন বলছে, তারা গ্রাহকদের পাওনা ৩১০ কোটি ৯২ লাখ টাকার বকেয়া 'ব্যবসায়িক স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ লাভের মাধ্যমে' পরিশোধ করবে।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমরা ইভ্যালির জবাব পেয়েছি। বিষয়টি দেখার জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। কোম্পানিটির দায়, বিজনেস পলিসি বিশ্লেষণ করতে কমিটি অবিলম্বে বসবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।"

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান বলেন, "ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। আমরা একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি দেখা করতে পারবেন।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা তাকে সমস্যায় ফেলতে চাই না কারণ এতে গ্রাহকরাও সমস্যায় পড়বে। আমরা গ্রাহক এবং মার্চেন্টদের স্বার্থের দিকে মনোযোগ দেব। তারাই আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। প্রথমে তাদের রক্ষা করা হবে, তারপর ইভ্যালি।"

এর আগে গত ২৬ আগস্ট ইভ্যালি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল, প্রায় ২১ লাখ গ্রাহকের কাছে তাদের প্রায় ৩১১ কোটি টাকা বকেয়া আছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ৮ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম আদায় করা প্রায় ৩৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক।

এর আগে, গত ৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কাছে পৃথক চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৪ কোটি টাকা আদায়ের পর ডেলিভারি না দেওয়া ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ১৯০ কোটি টাকার রিফান্ড না দেওয়ার অভিযোগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত মাসে ইভ্যালির বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবেদনে ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।

গ্রাহকদের কাছে অগ্রিম ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর ইভ্যালির চলতি সম্পদের পরিমাণ ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে নেওয়া অগ্রিম, সরবরাহকারীদের দেনা ও ব্যবসায়িক দেনাসহ ইভ্যালির মোট দায়ের পরিমাণ ৫৪৩ কোটি টাকা। এছাড়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দেওয়া বিবৃতিতে শেয়ারহোল্ডার ইক্যুইটি বাবদ আরও এক কোটি টাকা দায়ের কথা জানায় ইভ্যালি।

তবে, বিবৃতিতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের কাছে দেনার পরিমাণ আলাদা ভাবে দেখায়নি তারা।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ১২১ কোটি টাকা। সব সম্পদ বিক্রি করলেও তারা গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের মোট দেনার মাত্র ২২ শতাংশ পরিশোধ করতে পারবে। বাকি ৪২২ কোটি টাকা ঘাটতি রয়ে যাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ব্যালেন্স শিটে ঘাটতির প্রায় সমান বা ৪২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসেবে উল্লেখ করে ইভ্যালি।
সূত্র: টিবিএস নিউজ
এই বিভাগের আরও খবর