সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

বাতাসে উড়বে টেসলার রোডস্টার, চমকের আড়ালে প্রাণঘাতী ঝুঁকি


প্রকাশ : (১৩ ঘন্টা আগে)
বাতাসে উড়বে টেসলার রোডস্টার, চমকের আড়ালে প্রাণঘাতী ঝুঁকি

বৈদ্যুতিক গাড়ির জগতে নতুন চমক দেখানোর দাবি করছে টেসলা। প্রতিষ্ঠানটির আলোচিত রোডস্টারের রকেট থ্রাস্টার সংস্করণ ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটিকে মাটি থেকে ওপরে তোলা, শূন্যে ভারসাম্য রাখা এবং লাফ দেওয়ার মতো কসরত দেখানোর কথা বলা হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তি যতটা রোমাঞ্চকর, এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও ততটাই গুরুতর।

গাড়িতে রকেট থ্রাস্টার যুক্ত করে উড্ডয়নের ধারণা নতুন করে আলোচনায় আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি উড়তে পারবে টেসলার রোডস্টার? আর এমন গাড়ি চলাচল করলে আশপাশের মানুষ ও অন্যান্য যানবাহন কতটা নিরাপদ থাকবে?

টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের পরিকল্পনায় রোডস্টারের বিশেষ সংস্করণে মহাকাশযানে ব্যবহৃত প্রযুক্তির আদলে থ্রাস্টার যুক্ত করার কথা রয়েছে। তবে গাড়িটির উড্ডয়নক্ষমতা, আকাশে থাকার সময় এবং বাস্তব ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তাই প্রদর্শনীতে দেখানো কসরতকে নিয়মিত উড়ন্ত গাড়ির সক্ষমতা হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

রকেট থ্রাস্টারে কীভাবে ওপরে উঠবে গাড়ি?

রোডস্টারের আলোচিত প্রযুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। এতে কার্বন ফাইবার ওভারর‍্যাপড প্রেসার ভেসেল (সিওপিভি) নামের বিশেষ ট্যাংকে উচ্চচাপে গ্যাস সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেই গ্যাস দ্রুত বাইরে বের করে দিলে বিপরীত দিকে ধাক্কা তৈরি হয়। এই বলকে কাজে লাগিয়েই গাড়িকে সামনে, পেছনে কিংবা ওপরের দিকে ঠেলে দেওয়ার ধারণা করা হয়েছে।

প্রচলিত রকেট ইঞ্জিনের মতো এখানে জ্বালানি পুড়িয়ে গরম গ্যাস তৈরি করা হয় না। বরং আগে থেকে উচ্চচাপে সংরক্ষিত গ্যাস বের করে বল উৎপন্ন করা হয়। স্পেসএক্সের মহাকাশ প্রযুক্তিতেও এ ধরনের থ্রাস্টার ব্যবহারের নজির রয়েছে।

তবে গাড়িকে সামান্য ওপরে তোলা আর দীর্ঘ সময় আকাশে ভাসিয়ে রাখা এক বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঊর্ধ্বমুখী বল, স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যবস্থা এবং নির্ভুল নিয়ন্ত্রণ। পাশাপাশি নিরাপদে অবতরণের ব্যবস্থাও জরুরি। এসব সক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় রোডস্টার দিয়ে বাস্তবে কতটা উড্ডয়ন সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

চমকপ্রদ প্রযুক্তিই হতে পারে বড় বিপদের কারণ

রকেট থ্রাস্টারের শক্তিশালী গ্যাসের প্রবাহ আশপাশের মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। গাড়ির খুব কাছে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে প্রবল বায়ুচাপের কারণে গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। রাস্তার ধুলাবালু, ছোট পাথর কিংবা অন্যান্য বস্তু ছিটকে গিয়েও মানুষ ও যানবাহনের ক্ষতি করতে পারে।

বিশেষ করে যানজটপূর্ণ সড়কে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির পেছনে থ্রাস্টার চালু করা কিংবা পথচারীর কাছাকাছি উড্ডয়নের চেষ্টা গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

শুধু আশপাশের মানুষের নিরাপত্তাই নয়, গাড়ির চালকের সুরক্ষাও বড় চ্যালেঞ্জ। গাড়ি হঠাৎ ওপরে উঠে গেলে, ভারসাম্য হারালে কিংবা মাঝআকাশে ঘুরে গেলে চালককে নিরাপদে ধরে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়িকে নিরাপদে মাটিতে নামানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ সড়কে চলার অনুমতি পাবে কি?

রোডস্টারের রকেট থ্রাস্টার সংস্করণ নিয়ে আগ্রহ থাকলেও এর বাস্তব ব্যবহার নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণ গাড়ির মতো এটি সড়কে চলাচল করতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং প্রযুক্তির কার্যকারিতার ওপর।

টেসলার রোডস্টারের বিভিন্ন সংস্করণ নিয়ে আলোচনা থাকলেও রকেট থ্রাস্টারযুক্ত গাড়ির পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা ও নিরাপত্তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। প্রদর্শনীতে কোনো কসরত দেখানো মানেই প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত, এমন নয়।

সব মিলিয়ে, টেসলার রোডস্টার ভবিষ্যতের পরিবহনপ্রযুক্তি নিয়ে নতুন সম্ভাবনার কথা সামনে আনছে। কিন্তু গাড়িকে আকাশে তোলার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মানুষের জীবন নিরাপদ রাখা। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রকেটচালিত গাড়ির স্বপ্ন বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার কাছাকাছিই থেকে যাবে।

সূত্র: টেকরাডার

বিজ্ঞাপন