বিশ্ববাজারে আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনা, মার্কিন ডলারের ওপর আস্থার ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় ৬৩ টন স্বর্ণ কিনেছে। গত দুই বছরের মধ্যে এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণ কেনার ঘটনা। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু দেশ স্বর্ণ বিক্রি করলেও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যবান এই ধাতুর প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কমেনি।
সম্প্রতি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৭৫ ডলারে নেমে আসে। তবে তহবিল ব্যবস্থাপকদের ধারণা, সাময়িক দরপতন কাটিয়ে স্বর্ণের বাজার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড ম্যানেজার শার্লট ইয়ংয়ের মতে, প্রচলিত মুদ্রার প্রতি আস্থা কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বর্ণ আর্থিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে। একইভাবে আয়ন ইনভেস্টমেন্টসের কর্মকর্তা পল কারন ও অ্যালাইড গোল্ডের প্রধান নির্বাহী পিটার মারোনে মনে করেন, ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ডের পরিবর্তে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে।
এদিকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্বর্ণের মজুত বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট রিজার্ভের প্রায় ৯ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ৪১০ টন স্বর্ণ।
এন্ডেভার মাইনিংয়ের প্রধান নির্বাহী ইয়ান ককারিল এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সুকি কুপারও মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারকে শক্তিশালী ভিত্তি দিচ্ছে। ফলে আগামী দুই বছরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ।
**সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস**