শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ডুবল আরও দুই জাহাজ, নিহত নাবিক


প্রকাশ : (১৭ ঘন্টা আগে)
হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ডুবল আরও দুই জাহাজ, নিহত নাবিক

হরমুজ প্রণালির কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে। জাহাজ দুটির একটি কনটেইনারবাহী, অন্যটি শুকনো পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। অপর জাহাজের ২১ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটি হলো সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) জানায়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় জিএফএস প্রাইড। পরে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে এটি ডুবে যায়। জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কেপ দাও। পরে হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজটি ডুবে যায়। হামলার পর নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও একজনের মৃত্যু হয়।

আইএমওর জাহাজ দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাও হলো ডুবে যাওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের এমপিএ। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি এখনো কাটেনি। এ ঝুঁকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারে সীমাবদ্ধ নয়। কনটেইনারবাহী ও শুকনো পণ্য পরিবহনকারী জাহাজও হামলার শিকার হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা বাড়ানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: রয়টার্স

বিজ্ঞাপন