রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের তাগিদ


প্রকাশ : (৭ ঘন্টা আগে)
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের তাগিদ

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে ‘এনার্জি টক ৫: বাংলাদেশে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), বাংলাদেশ ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম ও উন্নয়ন-অর্থনীতি বিশ্লেষক মনোয়ার মোস্তফা। সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা এবং সঞ্চালনা করেন মো. নূরআলম শেখ।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রমাণ করেছে, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি স্থায়ী সমাধান নয়। তাই সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবন রক্ষায় ক্ষতিকর শিল্প ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাই দেশের বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হতো। সংকট মোকাবিলায় সঠিক পরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার প্রয়োজন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, কয়লায় থাকা সিসা, ক্যাডমিয়ামসহ ভারী ধাতু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে এসব দূষকের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি পরিবার পর্যায়ে সৌরশক্তি ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।

উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং বিডব্লিউজিইডির সদস্য সচিব হাসান মেহেদী বলেন, দেশে স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকছে। বিদ্যুৎ খাতে বিপুল ভর্তুকির প্রেক্ষাপটে এলএনজি ও কয়লা আমদানির পরিবর্তে দেশের নিজস্ব সূর্য ও বায়ুশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি ২০৩০ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান।

উন্নয়ন-অর্থনীতি বিশ্লেষক মনোয়ার মোস্তফা বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এ চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

আলোচনা সভায় তিনটি পৃথক অধিবেশনে দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, জীবাশ্ম জ্বালানি ও আমদানিনির্ভরতার প্রভাব এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতা ও সনদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বিজ্ঞাপন