রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ খুনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি


প্রকাশ : (৯ ঘন্টা আগে)
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ ৪ খুনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।অনেক প্রশ্ন তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।অপরদিকে হত্যাকান্ডের নৃশংসতা বিবেচনায় গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। নাগরিক কমিটি মনে করছে, পুলিশের বয়ানের সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের বক্তব্য, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে সাংঘর্ষিক তথ্য রয়েছে।হত্যাকান্ড সম্পর্কে পুলিশের বয়ান, নিহতদের স্বজনের জবানবন্দি, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তার বক্তব্য সাংঘর্ষিক। এই নৃশংস হত্যাকান্ডসহ দেশে সংঘটিত প্রতিটি হত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের দাবী করেন। এদিকে, মাছুয়াপাড়ায় চার খুনের ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে হত্যায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।অপরদিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে শনিবার সন্ধায় মহানগড় ডিবি জিজ্ঞাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।শনিবার সন্ধায় রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে নিহতের বাসার সামনে মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূটি পালন করে জয় শ্রী রাম সনাতনী সংঘ। এতে সংঘের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনবীজী চৈতালী চক্রবর্তী চৈতী এই হত্যান্ডের ঘটনায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন শিক্ষক পরিবার হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জঙ্গি ও মৌলবাদীরা জড়িত রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ‘মেটিকুলাস ডিজাইনের’ মাধ্যমে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। 
 রাতে মানব বন্ধন সমাবেশে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি চৈতালী চক্রবর্তী আরো বলেছেন, এই সরকার সোনতনীদের নিরাপত্তা দিতে পারছেননা। ইউনুছ সরকার সোনাতনীদের নিরাপত্তাদিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমি বলতে চাই আমরা কিন্তু আপনার জনগন।আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনারই।সাম্প্রদায়িক ছাড়ারাকি এটিতো মেটিক্যুলাস ডিজাইন।সাধারন মানুষও দেখছে হয়তো তা ভয়ে বলতে পারছেনা। এই হত্যাকান্ড এটি ম্যাটিকুলস ডিজাইন জঙ্গীদের এটি পরিকল্পনা ,নিছক পরিকল্পনা।সাধারন মানুষও দেখছে এটি সাম্প্রদায়িক। এই মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যোমে দেশকে অস্থিতিশীল পরিবেশ করার জন্য এসমস্ত ঘটনা ঘটেছে। এসমস্ত ঘটনা আজ কাল পরশু ঘটতেই থাকবে।বাংলাদেশ এখন জঙ্গিতে আক্রান্ত।গত ৫ আগষ্টেরপর থেকে জঙ্গির উত্থান হয়েছে এবং এমন ভাবে হয়েছে প্রতিটি ক্ষেত্রে সোনাতনীদের আক্রমন করা হচ্ছে এটা আমারকাছে একটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত এবং ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে সনাতনীরাই।
শনিবার বেলা ১১টায় রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন এই দাবি করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বিজয় প্রসাদ তপু, বীথি দাস নন্দিনী, মাহফুজ হোসেন, মসিউর রহমান, সবুজ রায়, মেহেদী হাসান তরুণ সহ অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে একটি পরিবারের চারজনকে হত্যা করার ঘটনা কতটা স্বাভাবিক, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চার জনকে হত্যার পর আসামিরা দীর্ঘ সময় বাড়িতে অবস্থান করে গোসল ও খাবার খেয়েছে, পুলিশের এই বর্ণনাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও গণপতি চক্রবর্তীর বাসার বিদ্যুৎ সংযোগের তার কে কেটেছে, হত্যার আগে ও পরে অচেনা মোটরসাইকেলে আনাগোনা কারা করেছিল এবং কেউ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করছিল কি না, এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না, তা জানতে চায়।লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকারের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন  তোলা হয়েছে। সংগঠনটি তাদের দাবি, পুলিশের বক্তব্যে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ এবং আসামিদের ভাগে পাওয়া অর্থের হিসাবে অসংগতি রয়েছে।একইভাবে ইয়াবার সংখ্যার হিসাব কেন পরিবর্তিত হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।এর পাশাপাশি হত্যাকান্ডের আগে নিহত পরিবারের সদস্যদের কোনো আশঙ্কা বা অভিযোগ ছিল কি না, বাড়ি নির্মাণ নিয়ে তাঁদের কাউকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না এবং এসব বিষয় তদন্তে যাচাই করা হয়েছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে নাগরিক কমিটি।
রংপুর নাগরিক কমিটির নেতা পলাশ কান্তি নাগ লিখিত বক্তব্যে বলেন, শুধু আসামিদের স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করে তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, মুঠোফোনের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যসহ সব তথ্যের সঙ্গে পুলিশের বর্ণনা মিলিয়ে দেখতে হবে। পুলিশের বক্তব্যের অসংগতি গুলো দূর করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে চার হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ব‌ঘাটনের দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ লিখিত বক্তব্যে জানান,শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সকলকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা প্রমাণ করে রংপুরসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক। এ ঘটনায় দুইজনকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ গণমাধ্যমে পুরো হত্যাকান্ড সম্পর্কে যে বক্তব্য উপস্থাপন করে সেটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন, সংশয় এবং আস্থাহীনতার জন্ম হয়েছে।
সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ জানান,বিচার হীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চায়। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ চার খুনের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হওয়া জরুরি। এজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। যাতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
প্রসঙ্গত,রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান।এর আগে রংপুর শহরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। জমিটি ২০১০ সালে কেনা হলেও অনেক পরে সেখানে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন।সেই বাড়ির দোতলায় প্রায় তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেনে গণপতি চক্রবর্তী। তবে নিচ তলার কাজ এখনো শেষ হয়নি। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখতেন ।২২ অগাস্ট রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।চারজনকে হত্যার এ ঘটনায় রোববার নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।ওই রাতের ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। 
রংপুর আইনজীবী সমিতির আসামীর পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা ঃ--অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যদের হত্যাকান্ডের ঘটনায় আসামীদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছেন রংপুর আইনজীবী সমিতি।শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টায় আইনজীবী সমিতি ভবন চার হত্যাকান্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আইনজীবী সমিতির পক্ষে  সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাটি নিকৃষ্টতম ঘটনা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা কয়েকজন সরকারি আইনজীবীসহ রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছি।আমরা আইনজীবী সমিতির পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কে বলতে চাই, আপনাদের পাশেই রয়েছি।আইনগত সব ধরণের সহায়তা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনের লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে লুণ্ঠিত গহনা উদ্ধার হয়েছে। আটক দুইজন ইতিমধ্যে ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশি তৎপরতা, সাংবাদিকগণের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত এবং কার্যক্রম সঠিক পথেই আছে বলে আমরা মনে করছি।এই হত্যাকান্ড নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকমের গুজব ও গল্প সাজিয়ে প্রচার করছেন। কেউ কেউ এটাকে রাজনৈতিক করনের প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ এই হত্যাকান্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। কোন প্রকার গুজব ছড়াবেন না।  একই পরিবারের চার সদস্যদের হত্যাকান্ডের ঘটনায় আসামীদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে রয়েছি এবং তাদের সবধরনের আইনি লড়াইয়ে আমরা তাদের পাশে আছি। এসময় তিনি এই হত্যাকান্ড নিয়ে সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহবান জানান।
এসময় রংপুর সিটি করর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, রংপুর আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, জামায়াতের আইনজীবী এডভোকেট কাওছার আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরে আলোচিত ৪ খুনের ঘটনায় তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক হেনস্তায় মৌন প্রতিবাদঃ--রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় চার খুনের ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে হত্যায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা মৌন প্রতিবাদ করেছে। স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হেনস্থার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার বলেন, চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে ও তথ্য সংগ্রহ করতে তিনজন সহকর্মীর সাথে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে যান। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি কেড়ে নেন।
সেলিম সরকার বলেন, এ সময় পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করেন। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে পার্থ তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন এবং বলেন, তিনি গলিতে ঢুকেছিলেন এবং তার ব্যাগে কিছু রয়েছে। এরপর তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করা হয়।একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন সেখানে জড়ো হন। পরে ঘটনাস্থলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আসে। ওই সাংবাদিকের ব্যাগে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা করতে উগ্র আচরণ করেন শুরু করে পার্থ দাস। পরে ডিবি সদস্যরা ব্যাগটি খুলে দেখান। সেখানে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ার পর তাকে যেতে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর হোসেন নামে আরেক সংবাদকর্মী জানান, সাংবাদিককে হেনস্তা করে পার্থ।এ সময় তারা কয়েকজন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও উল্টো সবাইকে দোষ দিয়ে রাগারাগি করে পার্থ। 
সংবাদকর্মি ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন,প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস এবং তার বাবা বিনয় দাস একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। এবং তারা মাঝেমধ্যে উগ্র আচরণ করছেন।তাদের এমন পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলেই তারা সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যাচ্ছেন। এবং তারা চাচ্ছেন না এখানে সংবাদ কর্মীরা কাজ করতে আসুক।  
হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থলের ওই বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্থা করা হয়েছে। পরে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তার ব্যাগ খুলে দেখান। ব্যাগে ওই সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।
রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের ভাই ও বাবা ডিবি হেফাজতেঃ-
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে শনিবার সন্ধায় মহানগড় ডিবি জিজ্ঞাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।শনিবার সন্ধায় রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বিকালে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে কিনা এব্যাপারে জানতে চাইলে ইত্তেফাককে বলেন , গ্রেপ্তার দেখানো হবে কিনা পড়ে জানানো হবে।
গত বুধবার রাতে সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস আলামত নষ্টের অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, হত্যাকান্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে।যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলামত নষ্ট করতে ছাদ ধোয়া হয়নি। ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় ট্যাংক থেকে পানি উপচে ছাদ ভিজে যায়।

 

বিজ্ঞাপন