রংপুরের বৈরাগীপাড়ার মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নকে ধ্বংস করেনি; এই ঘটনা মানুষের নিরাপত্তাবোধ, পুলিশের তদন্তের সক্ষমতা এবং আইনের শাসনের ওপরও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরকালীন ছুটিতে (পি আর এল) শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল(৫৯), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), কারমাইকেল কলেজে ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং রংপুর জিলা স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১২/১৩)। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল—বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড। দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। কিন্তু ঘটনার কারণ ও পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি কোতোয়ালি থানা থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পুলিশের কাছে কি পুরো সত্যটি পরিষ্কার?
গণপতি চক্রবর্তী শুধু একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন না
গণপতি চক্রবর্তী গাইবান্ধা সরিকারি বালিকা বিদ্যালয়, লালমনিরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এবং সর্বোপরি বেশিরভাগ কর্মজীবন ছিল রংপুর জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক। তিনি হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হলেও সুন্দর হাতের লেখা ও ইংরেজিসহ অন্যান্য বিষয়ের দক্ষ শিক্ষক । দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের ২ তারিখে তিনি অবসরকালীন ছুটিতে (পি আর এল) যান । অবসরকালীন ছুটিতেও তিনি মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাননি; হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রোগী দেখতেন।
তিনি মাছুয়াপাড়ায় একটি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। পরিবার নিয়ে সেই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন। স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং স্কুলপড়ুয়া ছেলে আয়ুশ—এই ছিল তাঁর সংসার।
একজন শিক্ষক, চিকিৎসা সেবায় যুক্ত একজন মানুষ এবং একজন পরিবারের কর্তার এমন পরিণতি রংপুরবাসীর কাছে তাই আরও বেদনাদায়ক।
ঘটনার নির্মমতা
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতির মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে, তাঁর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির কাছে এবং ছেলের মরদেহ শোবার ঘরের পাশে পাওয়া যায়।
একই পরিবারের চারজন মানুষ—বাবা, মা, মেয়ে ও ছেলে—ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিহত হয়েছেন।
এই দৃশ্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তদন্তের অনেক প্রশ্ন।
কারা প্রথম আক্রমণ করেছিল?
কীভাবে একজনের পর একজনকে নিয়ন্ত্রণ করা হলো?
পরিবারের কেউ প্রতিরোধ করেননি?
প্রতিবেশীরা কোনো শব্দ শুনলেন না?
হত্যার পর হত্যাকারীরা কীভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল?
হত্যার আগে অজ্ঞান করা হয়েছিল কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু অনুমান দিয়ে নয়, আলামত দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
পুলিশের বয়ান বনাম জনমনের প্রশ্ন
প্রথম দিকে ঘটনাটিকে ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, দুই তরুণ একে একে পরিবারের চারজনকে হত্যা করে।
কিন্তু পুলিশের এই ব্যাখ্যা নিয়ে নিহতদের স্বজনেরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সংগঠনও পুলিশের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছে এবং অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—
স্বজনদের সন্দেহ মানেই পুলিশের বক্তব্য মিথ্যা নয়। আবার পুলিশের বক্তব্য মানেই সেটি আদালতে প্রমাণিত সত্যও নয়।
সত্য নির্ধারণ করবে প্রমাণ ও বিচারপ্রক্রিয়া।
পুলিশের বয়ানে যে ১১টি প্রশ্নের উত্তর জরুরি
১. হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড—এটি পুলিশের একটি ব্যাখ্যা। কিন্তু চারজনকে হত্যা করার মতো চরম সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তার পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ কী—তা প্রমাণ দিয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গভীর রাতে কেন ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করবে? তখন রাস্তা সহ সকল স্থান জনমানবহীন। তবে কষ্ট করে ছাদে কেন?
২. দুই ব্যক্তি কীভাবে চারজনকে হত্যা করল?
এটি তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী, একজন তরুণী এবং একজন শিশু—চারজনকে ভিন্ন স্থানে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে কত সময় লেগেছিল?
হত্যার সময় কেউ চিৎকার করেনি?
কেউ প্রতিরোধ করেনি?
কোনো প্রতিবেশী কিছু টের পাননি?
এসব প্রশ্নের উত্তর ঘটনাস্থল, ফরেনসিক ও সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে বের করা দরকার।
৩. বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল কি?
পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবাদকারীদের অন্যতম প্রশ্ন ছিল—ঘটনার সময় বিদ্যুতের লাইন কে বা কারা কেটেছিল। এই প্রশ্নের উত্তর যদি প্রযুক্তিগতভাবে পাওয়া যায়, তাহলে ঘটনার সময়সীমা ও হত্যাকারীদের গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
৪. হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মোবাইল ফোনগুলো কোথায় ছিল?
নিহতদের মোবাইল ফোন, কললিস্ট, মেসেজ, ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সম্ভাব্য লোকেশন ডেটা পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার আগে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল?
ঘটনার সময় ফোনগুলো কোথায় ছিল?
ঘটনার পরে কে ফোন ব্যবহার করেছে?
এত সময়ে কেন আগামীসহ কেহ পুলিশ বা ৯৯৯ বা নিজেদের কাউকে ফোন করল না ?
এসব তথ্য তদন্তকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।
৫. সিসিটিভি বা আশপাশের ডিজিটাল প্রমাণ কী বলছে?
বাড়ির আশপাশ, সড়ক, দোকান কিংবা প্রতিষ্ঠানের কোনো সিসিটিভি থাকলে সেগুলো পরীক্ষা করা জরুরি।
কারা কখন বাড়ির আশপাশে ছিল?
কোনো মোটরসাইকেল বা যানবাহন এসেছিল কি?
কেউ দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেছিল কি?
এসব তথ্য হত্যাকাণ্ডের সময়রেখা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
৬. ফরেনসিক আলামত কী বলছে?
শুধু স্বীকারোক্তি নয়—ঘটনাস্থলে পাওয়া ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, চুল, তন্তু, রক্ত, পোশাক এবং অন্যান্য জৈবিক আলামত কার সঙ্গে মেলে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযুক্তদের শরীরে বা পোশাকে নিহতদের কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না—তাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৭. ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন কী বলছে?
ময়নাতদন্তে চারজনের মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ষণ বা পোড়া দাগ নিয়ে যে নানা দাবি ছড়িয়েছিল, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সেসব দাবির কিছু নাকচ করেছেন।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য আর বৈজ্ঞানিক ময়নাতদন্তের ফল এক বিষয় নয়। তবে এসব বিষয়ে কেন জনগণের প্রশ্ন উঠছে?
তাই তদন্তে গুজব নয়, ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষাগারের ফলকেই গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিশ্বাস যেন তৈরি হয়।
৮. হত্যার আগে পরিবারের কোনো বিরোধ ছিল কি?
সম্পত্তি, নির্মাণাধীন বাড়ি, অর্থনৈতিক লেনদেন, ব্যক্তিগত বিরোধ, সামাজিক সম্পর্ক—কোনো বিষয় নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্তে দেখা উচিত।
কোনো সম্ভাবনা আগে থেকেই বাদ দেওয়া উচিত নয়।
৯. গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির জবানবন্দি কতটা আলামত দ্বারা সমর্থিত?
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তদন্তের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—জবানবন্দিতে বলা কথাগুলো স্বাধীন প্রমাণ দিয়ে যাচাই করা।
অর্থাৎ—
জবানবন্দি → ঘটনাস্থল → ফরেনসিক → মোবাইল → সিসিটিভি → সাক্ষ্য
সবগুলো কি একই দিকে ইঙ্গিত করছে?
যদি করে, পুলিশের বক্তব্য শক্তিশালী হবে।
যদি না করে, তাহলে তদন্তকে আরও গভীরে যেতে হবে।
১০. অন্য কেউ জড়িত কি না?
এই প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু মামলাটি পরে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে অধিকতর তদন্ত ও অভিযোগপত্র দেওয়ার লক্ষ্যে। জনগণের সন্দেহজনক বিষয়গুলোকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে।
তদন্তের স্বার্থেই দেখতে হবে—ঘটনার সঙ্গে শুধু গ্রেপ্তার ব্যক্তিরাই জড়িত, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তি সহযোগিতা করেছে।
১১. ট্যাংকির মটর চালু করে আলামত নষ্টের অভিযোগ ঠিক কি না?
ভুলে মটর ছেড়ে দিয়ে ছাদে পানি এই যুক্তি কতটুকু গ্রহনযোগ্য। কারণ ট্যাংকি ভর্তি হলে অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার জন্য আলাদা পাইপ দিয়ে পানি ছাদের উপরে নয়, মাটিতে বা বাসার ভিন্ন পথে অপসারিত হওয়ার কথা। তবে কেন ভুলের কথা বলে আলামত নষ্ট করার অভিযোগকে আড়াল করা।
এই প্রশ্নের উত্তর অনুমানে নয়, প্রমাণে দিতে হবে।
তদন্ত ডিবিতে যাওয়াকে কীভাবে দেখা উচিত?
মামলার তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর ইতিবাচক। এটি অধিকতর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের সুযোগ হতে পারে যা উত্থাপিত বিষয়গুলোর সমাধান হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, অধিকতর স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্তভার পরিবর্তন করা হয়েছে।
এখন ডিবির সামনে বড় দায়িত্ব।
কারণ এই তদন্ত শুধু একটি মামলার তদন্ত নয়; এটি পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের পরীক্ষাও।
আন্দোলন কেন জরুরি?
এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে রংপুরে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নাগরিক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আন্দোলন না হলে অধিকতর তদন্তের জন্য ডি বি কে দেয়া নাও হতে পারতো। । ফলে জনগণের সন্দেহের তীর থেকেই যেত। ডিবি 'র বড় দায়িত্ব উপযুক্ত প্রমাণসহ সত্যকে উদঘাটন করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
আবার আন্দোলনকারীদের জন্য আন্দোলনকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে পরিণত না করে ন্যায়বিচারের আন্দোলন হিসেবে পরিচালনা করা উচিত।
কারণ আন্দোলনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—
“যে-ই অপরাধী হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
এটি সবচেয়ে শক্তিশালী দাবি।
আমি মনে করি আন্দোলনকারীদের করণীয়
১. তদন্তকে প্রভাবিত না করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো।
২. পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ না তুলে তদন্তের নির্দিষ্ট প্রশ্নগুলো সামনে আনা।
৩. ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানানো—আইনগত সীমার মধ্যে।
৪. তদন্তে ডিএনএ, মোবাইল ডেটা, সিসিটিভি ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ব্যবহারের দাবি করা।
৫. প্রয়োজন হলে বিচার বিভাগীয় বা স্বাধীন তদন্তের দাবি উত্থাপন করা।
৬. কোনো গুজব, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সামাজিক বিভাজন তৈরি হয়—এমন প্রচারণা থেকে বিরত থাকা।
৭. নিহত পরিবারের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি করা।
৮. মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত জনগণকে অবহিত করার দাবি করা।
পুলিশের জন্য ১০ দফা প্রত্যাশা
এক. তদন্তের সব সম্ভাব্য মোটিভ খতিয়ে দেখা।
দুই. শুধু স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর না করা।
তিন. ফরেনসিক প্রমাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
চার. মোবাইল ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করা।
পাঁচ. সিসিটিভি ও আশপাশের প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ সাক্ষ্য যাচাই করা।
ছয়. হত্যার সময়রেখা পুনর্গঠন করা।
সাত. আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত মিলিয়ে দেখা।
আট. অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা থাকলে তা তদন্ত করা।
নয়. তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আইনসঙ্গত ও দায়িত্বশীলভাবে তথ্য দেওয়া।
দশ. নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধী যেন কোনোভাবেই রেহাই না পায়—এটি নিশ্চিত করা।
চারটি চিতা, কিন্তু প্রশ্নের আগুন এখনো জ্বলছে
গণপতি চক্রবর্তী, প্রীতিলতা, আগামী ও আয়ুশের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। চারটি জীবন শেষ হয়েছে; একটি পরিবার চিরতরে নিঃস্ব হয়েছে। শুধু পরিবার নয় একটি বংশ নির্বংশ হয়েছে। ঐ বংশে আয়ুশ ছাড়া কোনো ছেলে সন্তান নাই।
কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে প্রশ্নগুলোর মৃত্যু হয়নি।
বরং এখন প্রশ্ন আরও বড়।
কেন তাঁদের হত্যা করা হলো?
কারা হত্যা করল?
কীভাবে চারজনকে হত্যা করা হলো?
ঘটনার পেছনে আসলেই কি সেই কারণ, যা পুলিশ বলছে?
আর যদি তাই হয়—
প্রতিটি ধাপের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কোথায়?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জনগণ চায়। তবে জনগণ শুধু উত্তর চায় না—বিশ্বাসযোগ্য উত্তর চায়।
কারণ একটি হত্যামামলার তদন্তে আসামি গ্রেপ্তার করা সাফল্যের একটি ধাপ মাত্র। প্রকৃত সাফল্য হলো এমন একটি সত্য আদালতের সামনে প্রতিষ্ঠা করা, যা প্রমাণের পরীক্ষায় টিকে থাকে।
গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন শিক্ষক। তাঁর হাতে বহু শিক্ষার্থী শিক্ষা পেয়েছে। তিনি চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই নির্মম হত্যার শিকার হলেন।
তাঁর পরিবারের চারটি প্রাণ আর ফিরবে না।
কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর সত্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তাই এখন রংপুরবাসীর দাবি হওয়া উচিত—
কাউকে রক্ষা নয়, কাউকে ফাঁসানো নয়—প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করুন।
গুজব নয়—তদন্ত চাই।
অনুমান নয়—প্রমাণ চাই।
আড়াল নয়—সত্য চাই।
আর চারটি প্রাণের জন্য—ন্যায়বিচার চাই।
লেখক: শফিয়ার রহমান ,অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রংপুর জিলা স্কুল।
রংপুরে অটোরিক্সা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার
১০ ঘন্টা আগে
‘প্রবীণদের নিয়ে রিক এর পথচলা’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন
১০ ঘন্টা আগে