বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

লালমনিরহাটে ১৫ বছর পর হত্যা মামলার রায়, একজনের যাবজ্জীবন, খালাস ৬ জন


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকার আলোচিত আসাদুল ইসলাম দুলাল হত্যা মামলার প্রায় ১৫ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি মামুনুর রশীদ ওরফে সুমনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মামুনুর রশীদ সুমন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— শাহিন ওরফে পিচ্ছি শাহিন, ফরিদুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু, নূর আলম, লিটন মিয়া, রবিউল ইসলাম ও হাফিজুল ইসলাম। রায় ঘোষণার পর আদালত তাদের জামিনদারদের জামিনের দায় থেকে অব্যাহতি দেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে পাটগ্রাম উপজেলার উত্তরমারী (বুড়িমারী) এলাকায় আসাদুল ইসলাম দুলালকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা মফিজাল হোসেন প্রধান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুলালের শ্বাসনালী ও ডান পাশের প্রধান রক্তবাহী ধমনী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত প্রধান আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। তবে অন্য ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত মামুনুর রশীদ সুমনকে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।