উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি চর ও নিম্নাঞ্চলের বসতভিটা এবং আবাদি জমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
সোমবার সকালে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে তা বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধির কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
আদিতমারী উপজেলার চর গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা মতি মিয়া বলেন, সকালে নদীর পানি স্বাভাবিক থাকলেও বিকেলের পর থেকে দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের ধানের চারা, বাদাম, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই উপজেলার হাতীবান্ধার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক ফজলু মিয়া বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদী ইতোমধ্যে পানিতে ভরে গেছে। এর সঙ্গে উজানের আরও ঢল এলে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমাত্রার বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণেই তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সকালে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও সন্ধ্যার মধ্যে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।