সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন আগে হওয়ার ইঙ্গিত, সীমানা জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ


প্রকাশ :

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী অক্টোবর থেকে শুরু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় ও চলমান সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কমিশন।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর এক অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তবে তপশিল ঘোষণার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় ছাড়া এখনই নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে না। নির্বাচন অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হলে তার অন্তত ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সীমানা নির্ধারণ ও বিদ্যমান জটিলতা দূর করতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়া হবে। পাশাপাশি সীমানা-সংক্রান্ত সমস্যায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকাও কমিশনের কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদসহ অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কার্যত শূন্য অবস্থায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সব নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়।

কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আগে আয়োজন করা অধিক যৌক্তিক হতে পারে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনগুলো বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রয়োজন, আইনি বাধ্যবাধকতা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ইতিবাচক ভূমিকা অপরিহার্য। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি জানান, কমিশন ইতোমধ্যে অক্টোবরকে সম্ভাব্য সময় ধরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। সময়সূচি প্রয়োজনে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়।

অনুষ্ঠানে অপর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন সব ধরনের প্রাক-প্রস্তুতি শুরু করেছে। আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সীমানা নির্ধারণের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের মতোই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল এবং আরএফইডির নেতৃবৃন্দ।