লালমনিরহাটকে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, দুর্নীতি ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। সামাজিক সংগঠন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’–এর ব্যানারে পরিচালিত অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে।
গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাট রেলওয়ে এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর হাত ধরেই সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটির লক্ষ্য মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
উদ্বোধনের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই রোববার (৫ জুলাই) দিনব্যাপী অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৫ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের চইলতার তল এলাকায় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে মোগলহাট, কুলাঘাটসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে পরিচালিত অভিযানে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই জেলার বাইরের বাসিন্দা।
অভিযান শেষে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “লালমনিরহাটের পরিবেশ যারা নষ্ট করছে, বাইরে থেকে এসে যারা মাদকের মরণনেশা ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নির্মূলে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি আমরা একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর মাধ্যমে এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে। শুধু মাদক নয়, পর্যায়ক্রমে বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যদের পাশাপাশি ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরাও অংশ নেন। এদিকে, সংগঠনটির সদস্যরা ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং লালমনিরহাটকে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার এ প্রচেষ্টায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।