রংপুরের মিঠাপুকুরে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে শক্রুতার জেরে ৪ জনকে বিষাক্ত মদ পান করিয়ে হত্যা মামলার অভিযোগে দুইজন আসামিকে র্যাব ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে| গ্রেফতার কৃতরা হলো মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪০)| বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, র্যাব-১৩‘র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গো¯^ামী|
র্যাব-১৩‘র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, মোঃ জাহিদুল ইসলাম(৪০) এর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম বাদীর মামা ধৃত আসামিদের অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের সাথে শক্রুতার সৃষ্টি হয়| এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০মে তারিখ রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আসামি মোঃ রফিকুল ইসলাম কৌশলে তার আম ও মালটা বাগানে নিয়ে গিয়ে ভিকটিম এবং তার তিন বন্ধুকে বিষাক্ত এবং অতিরিক্ত পরিমাণ মদপান করান| পরবর্তীতে ভিকটিমসহ অন্যান্যরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায় এবং ভিকটিমসহ সবাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন| বাদী ও পরিবারের সদস্যরা ভিকটিমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান| গত ১ জুন ২৬ দুপুর ২টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম মোঃ সাজু মিয়া (৫৫)র মৃত্যু হয়|
এ ঘটনায় ভিকটিমের সাথে থাকা তার তিনজন বন্ধুরও বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু হয়| পরবর্তীতে গত ২জুন ভিকটিমের ভাগিনা বাদী হয়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০২/৩২৮/৩৪ ধারায় বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে আঘাত প্রদান করে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন| যার মামলা নং-০৪|
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে|র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়| সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর এবং সিপিসি-২, র্যাব-০৪, সাভার, ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার আলোচিত হত্যা মামলার এজহারনামীয় পলাতক প্রধান আসামি মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪০) উভয়ের পিতা-মোঃ সোলেমান মিয়া, সাং-খোর্দ্দ কোমরপুর, থানা-মিঠাপুকুর, কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়| তাদের পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে|