সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পিছিয়ে ২০২৯ পর্যন্ত, আবারও নতুন সমীক্ষা


প্রকাশ : (১৬ ঘন্টা আগে)
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পিছিয়ে ২০২৯ পর্যন্ত, আবারও নতুন সমীক্ষা

দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আবারও সময় বাড়ছে। মূল নির্মাণকাজ শুরুর আগে নতুন করে সম্ভাব্যতা ও কারিগরি সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই সমীক্ষা ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সব প্রক্রিয়া শেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ ২০২৯ সালের আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এর আগে চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন এবং ২০২৭ সালে মূল কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। নতুন সমীক্ষার উদ্যোগে সেই সময়সূচি এখন পিছিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন কারিগরি সমীক্ষা করা হবে। সমীক্ষার অর্থায়ন করবে সরকার। সমীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়ার পর এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকল্পের মূল প্রস্তাবও নতুন করে তৈরি করা হবে।

তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার নিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও অর্থায়ন, কারিগরি প্রস্তুতি এবং ভূরাজনৈতিক নানা জটিলতায় প্রকল্পটির অগ্রগতি বারবার থেমেছে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের দিকে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয়। এর বাইরে ২০২৪ সালে ভারতও প্রকল্পটিতে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করে।

২০২৫ সালের ৩০ জুন পরিকল্পনা কমিশন তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়। এরপর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) চীনের কাছে একটি প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠায়। এতে প্রথম পর্যায়ের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৭৪৭ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৫৫০ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার চীনের ঋণ এবং বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।

নতুন সমীক্ষায় যা থাকছে

নতুন কারিগরি সমীক্ষায় তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ, নদীর গতিপ্রকৃতি, পলি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। নদী স্থিতিশীল রাখা, ভাঙন কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি পলি ব্যবস্থাপনার কৌশল নির্ধারণ করা হবে সমীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।

সমীক্ষার আওতায় তিস্তার বাংলাদেশ অংশের পুরো নদীপথ বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদী এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট শাখা নদীগুলোও থাকবে।

সমীক্ষার প্রথম অংশে নদীভাঙন, বন্যার ঝুঁকি, পলির গতিপ্রকৃতি ও পানি সংকটের মতো প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবহার, পানি সংরক্ষণ ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিভিন্ন বিকল্পও যাচাই করা হবে।

দ্বিতীয় অংশে থাকবে ফিজিক্যাল মডেলিং। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নদীর প্রবাহ, পলিবহন ও নদীর গঠনগত পরিবর্তন পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে নদীশাসন কাঠামো, ড্রেজিং, চ্যানেল ব্যবস্থাপনা ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

বন্যার ঝুঁকি কমানো, কৃষি ও অবকাঠামো সুরক্ষা এবং তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও সমীক্ষায় পর্যালোচনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, নতুন সমীক্ষার মাধ্যমে তিস্তা নদীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি নকশা তৈরি করা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদে উত্তরাঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৭ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এক কোটির বেশি মানুষকে সুরক্ষার লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটির।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

বিজ্ঞাপন