বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

ফলিমারীতে সংঘর্ষে আহত ১৬, ওসি ক্লোজড, আটক ২ জন


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ভুট্টা ক্ষেত থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ-বিজিবি ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষ রণক্ষেত্র পরিণত হয়েছে। এসময় ডিসি ও এসপির গাড়ী ভাংচুর করা হয়। এতে পুলিশ সুপারসহ আহত হয়েছেন ১৬ জন। আর দায়িত্ব অবহেলার কারণে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে। আর আটক করা হয়েছে বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৫) ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণ (৫৫) নামের দুজনকে।

বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে। 

জানাগেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদিতমারী উপজেলায় ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানীর (৭) মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ।

নিহত শিশু নন্দিনী রানী ফলিমারী গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে। শিশুটি স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানাগেছে । এর আগে সোমবার বিকেলে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। 


এদিকে শিশু নিহতের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী সন্দেহে একই এলাকার বিধান চন্দ্র বর্মণ ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণকে আটক করে তাদের বাড়ীঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে পুলিশ -বিজিবি ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের উপর আক্রমণ চালান।

এদিকে খবর পেয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ,পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ প্রশাসক,এডিসি ও বিজবির অধিনায়ক ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী উত্তেজিত জনতাকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আটক বাবা ও ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসার চেষ্টা চালান। এসময় আবারও উত্তেজিত জনতা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়ী ভাংচুর চালান। এসময় পুলিশ ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেন। আর উত্তেজিত জনতা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ও স্থানীয় জনতাসহ ১৬ আহত হন। আহতের লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।


এদিকে পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানায়, প্রতিদিনের মতো শিশুটি খেলাধুলার জন্য সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সে সন্ধ্যা পযর্ন্ত বাড়িতে ফিরে না আসলে পরিবারের লোকজন এদিক সেদিক খুঁজতে থাকে। প্রায় সারা রাতজুড়ে বিভিন্ন স্থানে শিশুটির সন্ধান করেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু কোথাও শিশুটির সন্ধান মিলেনি। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন গ্রামের জাবেদ আলীর ভুট্টাখেতে ভুট্টা গাছ ভাঙ্গা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। তারা ভুট্টাখেতের ভেতরে গিয়ে গর্ত দেখতে পায়। গর্তের মধ্যে শিশুটির মরদেহ বস্তাবন্দী করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।


পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ শিশুটিকে জোরপুর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে ভুট্টাখেতে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহটি বস্তাবন্দী করে ভুট্টাখেতের ভেতর গর্ত করে পুতে রাখা হয়।


শিশুটির বাবা নলিনী বর্মণ জানান,’ আমার সাথে গ্রামে কোন দ্বন্দ নেই। আমি একজন কৃষক। খুব সাধারন জীবনযাপন করি। সোমবার দুপুরেও আমি মেয়েকে সাথে নিয়ে দুপুরের আহার করেছিলাম।’ ‘আমার ছোট মেয়েটিকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি বিচার চাই।’


শিশুটির মা সাবিত্রী রানী বলেন,’ নন্দিনী প্রতিদিন বিকেলে বাড়ির বাইরে খেলতে যেতো। সোমবারে বিকেলেও খেলতে গিয়েছিল। বাড়ির পাশে বেশ কয়েকটি ভুট্টাখেত রয়েছে। হয়তো আমার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে অথবা জোরপুর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে ভুট্টাখেতে আটকে রেখে তার সাথে পৈশাচিক আচরণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’


 আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান,’ বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরো জানান, শিশুটির মরদের উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণের পাশাপাশি আটক বাবা-ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। 

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান সাংবাদিকদের জানান, এধরনের নৃশংস ঘটনা যাতে বাংলাদেশে আর না ঘটে। তিনি এ ঘটনার সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দার পাশাপাশি দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন।