সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

লালমনিরহাটে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ, বদলে যেতে পারে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র


প্রকাশ :

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে লালমনিরহাটে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এই জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের মধ্যে লালমনিরহাটে একটি ইপিজেড স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা শেষে সরকার বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, লালমনিরহাটে ইপিজেড স্থাপিত হলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে জেলার দারিদ্র্য হ্রাসের পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিনির্ভর জেলা হিসেবে লালমনিরহাটে ধান, আলু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যাপক। ফলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য এ অঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ইপিজেড স্থাপিত হলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, খাদ্যশিল্প ও রপ্তানিমুখী বিভিন্ন কারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এ ছাড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় লালমনিরহাটে অবস্থিত হওয়ায় কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। ভারতের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগের সুযোগও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিসি সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব জমা পড়ে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর গুরুত্ব বিবেচনায় বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো নির্বাচন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে লালমনিরহাটের ইপিজেড অন্যতম।

এদিকে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি রপ্তানি ও আমদানি নীতিমালা আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সমন্বয়ের কাজও চলছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট শুধু কৃষিনির্ভর জেলা হিসেবেই নয়, উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এতে জেলার অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ারও উন্মোচিত হবে।