রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

অক্সিজেন না দেওয়ায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ


প্রকাশ :

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক অক্সিজেন না দেওয়ায়  মৃত্যুর অভিযোগ রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে| এ সময় মরদেহ মর্গে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে| পাশাপাশি চিকিৎসকরা প্রায় তিন ঘণ্টা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও স্বজনেরা| এ ঘটনার পরে মারা যাওয়া রোগীর মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে স্বজনেরা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন|

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছেলে রিফাত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান| সেখানে চিকিৎসকদের কাছে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করা হলে আগে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে স্বজনদের দাবি করেন| এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়|রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে| ঘটনার পর মরদেহ মর্গে রাখা হয় এবং সকাল ১১টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকে|

স্বজনদের অভিযোগ, মরদেহ বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করা হয়| পরে বেলা দেড়টার দিকে তারা মরদেহের দাবিতে মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন|

মৃত্যু নুর নাহার বেগমের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, আমার স্ত্রী ফোন করে মায়ের অসুস্থতার খবর দেয়| হাসপাতালে এসে দেখি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি| সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মায়ের মরদেহ আটকে রাখা হয়েছে| অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও সেখান থেকে মরদেহ নামিয়ে নেওয়া হয়|ভোর থেকে এখন পর্যন্ত মায়ের মুখ দেখতে পারিনি| কখনো ভাবিনি মারা যাওয়ার পরও মায়ের মরদেহ নিয়ে এমন ভোগান্তি হবে| আমরা শুধু মায়ের মরদেহ চাই, যেন দাফন সম্পন্ন করতে পারি|

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক| রোগীকে হাসপাতালে আনার পরপরই তার মৃত্যু হয়| সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দায়িত্বরত চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না|কোনো কারণ ছাড়াই চিকিৎসক নাঈম ও রাকিবসহ অন্যদের মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে| এমনকি দায়িত্বরত নার্সের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়েছে| অথচ কোনো চিকিৎসকই চান না যে কোনো রোগী অবহেলার কারণে মারা যাক|রোগীর স্বজনেরা যে আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়| এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে|মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়| ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত লোকসমাগম ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময় মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছিল| পরে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে|