বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম বন্ধ এবং শিশুদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), লালমনিরহাট।
রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সনাক, লালমনিরহাটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল-“শিশুশ্রমকে লালকার্ড দেখাই: শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সনাক সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীর প্রতীক, সহ-সভাপতি রাওয়ানা মার্জিয়া, সদস্য রিয়াজুল হক সরকার, টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. মোরশেদ আলম, ইয়েস সদস্য কল্পনা রানি, রিজু ইসলাম ও মো. আবু সাঈদ দুলাল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সনাক সদস্য মো. রফিকুল আলম খান স্বপন, ডা. আশিক ইকবাল মিলনসহ ইয়েস ও এসিজি সদস্য, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে এখনও অনেক শিশু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শৈশব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা দ্রুত হালনাগাদ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নির্মূলে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, এ খাতে নিয়োজিত শিশুদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করে বিকল্প কর্মসূচি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণকে শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তারা।
তারা সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে শিশুশ্রমের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকির ক্ষমতা প্রদান, ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি জোরদার এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি শিশুশ্রমবিরোধী আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান, পৃথক হটলাইন চালু এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে বিশেষায়িত শিশুশ্রম মনিটরিং ইউনিট গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, শ্রম আইন-২০০৬ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং শিশুশ্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূলে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে সচেতন হওয়ার এবং শিশুদের শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।