স্মার্টফোনে ব্লুটুথ চালু রাখা এখন অনেকের জন্যই স্বাভাবিক অভ্যাস। হেডফোন, স্মার্টওয়াচ, গাড়ির অডিও সিস্টেম কিংবা ফাইল শেয়ার—সবকিছুতেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও ব্লুটুথ চালু থাকলে তা অজান্তেই কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রথম বিষয়টি হলো দৃশ্যমানতা। ব্লুটুথ অন থাকলে অনেক সময় আপনার ডিভাইস আশেপাশের অন্য ডিভাইসের কাছে শনাক্তযোগ্য হয়ে থাকে। এতে অননুমোদিত কেউ সংযোগের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে পাবলিক জায়গায় এ ধরনের ঝুঁকি একটু বেশি।
দ্বিতীয়ত, ব্লুটুথ সিগন্যাল ব্যবহার করে অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। কিছু বাণিজ্যিক বা ট্র্যাকিং সিস্টেম এই প্রযুক্তি কাজে লাগায়। ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই চলাফেরার তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা থাকে।
আরেকটি বিষয় হলো ভুলবশত সংযোগ। অনেক সময় অপরিচিত ডিভাইস পরিচিত নাম ব্যবহার করে, যা দেখে ব্যবহারকারী বিভ্রান্ত হতে পারেন। একবার সংযোগ হয়ে গেলে ডিভাইসের কিছু তথ্য বা অ্যাক্সেস ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ব্যাটারির কথাও এখানে আসে। আধুনিক ব্লুটুথ প্রযুক্তি কম শক্তি খরচ করলেও অপ্রয়োজনে চালু থাকলে ধীরে ধীরে চার্জ কমায়।
তবে সবকিছুর পরেও ব্লুটুথ বন্ধ করে রাখা সমাধান নয়, বরং সচেতন ব্যবহারটাই মূল। প্রয়োজন না হলে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা ভালো। ডিভাইসকে লুকানো (নন-ডিসকভারেবল) অবস্থায় রাখা, অচেনা ডিভাইস এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা—এই কয়েকটি অভ্যাসই নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত করতে পারে।
সংক্ষেপে, ব্লুটুথ নিজে ঝুঁকিপূর্ণ নয়—অসচেতন ব্যবহারই সমস্যার মূল কারণ।