ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। কোরআন ও হাদিসে এ ইবাদতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (সুরা কাওসার: ২)
হাদিস শরিফে কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ফাতেমা (রা.)-কে কোরবানির সময় উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন এবং জানান, কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন। তিনি আরও বলেন, এ ফজিলত শুধু আহলে বাইতের জন্য নয়, বরং সকল মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য। (মুসনাদে বাজযার, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব)
অন্যদিকে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করলে কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার কোরবানি করার সামর্থ্য রয়েছে, অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ, মুস্তাদরাকে হাকেম)
কোরবানি কখন ওয়াজিব হয়?
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষ, যিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
নিসাবের অন্তর্ভুক্ত সম্পদ
কোরবানির নিসাব নির্ধারণে যেসব সম্পদ গণনা করা হয়, সেগুলো হলো—টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলংকার, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, বাড়ি বা গাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য এবং অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র।
নিসাবের পরিমাণ কত?
কোরবানির নিসাব নির্ধারণ করা হয় রূপার মূল্যের ভিত্তিতে। তা হলো সাড়ে ৫২ ভরি (৬১২.১৫ গ্রাম) রূপার সমমূল্যের সম্পদ। সোনা, টাকা বা অন্যান্য সম্পদ আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণে না পৌঁছালেও, সব মিলিয়ে যদি এ পরিমাণ হয়, তবুও কোরবানি ওয়াজিব হবে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী কত টাকা প্রয়োজন?
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর নির্ধারিত দরের ভিত্তিতে সাড়ে ৫২ ভরি রূপার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে, মানভেদে। সে হিসেবে কোরবানির দিনগুলোতে কারও কাছে ন্যূনতম প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বা তার সমমূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
তবে মনে রাখতে হবে, কোরবানির নিসাব নির্ধারণ করা হবে ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে রূপার বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। এ সময়ে দামের পরিবর্তন হলে সেই অনুযায়ী হিসাব করতে হবে।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্য থেকে পশু কোরবানি করার চেয়ে অন্য কোনও আমল মহান আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন এই কোরবানিকে তার শিং, পশম ও ক্ষুরসহ উপস্থিত করা হবে। আর কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই মহান আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে কোরবানি করো। (তিরমিজি: ১৪৯৩)
তাই সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য উচিত সন্তুষ্টচিত্তে ও আন্তরিকতার সঙ্গে কোরবানি আদায় করা।
সূত্র: ইত্তেফাক