রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ অন্যান্য

এক বছরে তিন ঈদ ও দুই হজ: ২০৩৯ সালে মুসলমানদের সামনে বিরল ধর্মীয় সময়চক্র


প্রকাশ :

ইসলামি চন্দ্রবর্ষ ও গ্রেগরিয়ান সৌরবর্ষের হিসাব মিলিয়ে সামনে আসছে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। ২০৩৯ সালে একই ইংরেজি বছরের মধ্যেই মুসলমানরা পালন করবেন তিনটি ঈদ এবং দুইবার হজ। ধর্মীয় দিক থেকে যেমন এটি বিরল, তেমনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবেও ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি পৃথক হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে হিজরি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সময়গত পার্থক্যের কারণে। ইসলামি চন্দ্রবর্ষ ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি পালিত হবে প্রথম ঈদুল আজহা। এটি হবে হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ, অর্থাৎ হজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ও কোরবানির ঈদ। এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জির চক্র পূর্ণ হয়ে একই ইংরেজি বছরের মধ্যেই আবার হজ মৌসুম ফিরে আসবে। ফলে ২০৩৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর পালিত হবে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা, যা পড়বে হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজে।

এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুটি পৃথক হজ অনুষ্ঠিত হবে— যা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এই দুই ঈদের আগে আলাদা দুটি আরাফার দিনও পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে ইবাদত ও দোয়ায় মগ্ন থাকেন।

এই দুই ঈদুল আজহার মাঝামাঝি সময়ে, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সে বছর মুসলমানরা রমজান, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় সময়চক্রের সাক্ষী হবেন।

জ্যোতির্বিদরা জানান, চন্দ্রবর্ষের এই স্থানান্তরের প্রভাব শুধু ঈদ ও হজেই সীমাবদ্ধ নয়। উদাহরণ হিসেবে ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে— একবার জানুয়ারিতে, আরেকবার ডিসেম্বরে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এতে বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে সূর্যভিত্তিক গ্রেগরিয়ান বছরে দিন সংখ্যা ৩৬৫ বা ৩৬৬। এই ব্যবধানের কারণেই ইসলামী মাসগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সূত্র: গালফ নিউজ