রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ অন্যান্য

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি


প্রকাশ :

উত্তর আমেরিকা ও কানাডায় ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা (এফসিএনএ)। সংস্থাটির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকে।

এ হিসাবে উত্তর আমেরিকার মুসলমানরা ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত থেকেই তারাবির নামাজ আদায় শুরু করবেন। একই সঙ্গে এফসিএনএ জানিয়েছে, এক মাস সিয়াম সাধনার পর ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আগাম ইসলামিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে এই স্বাধীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি।

ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা চন্দ্রমাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবকে শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফাতওয়া অ্যান্ড রিসার্চের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো নতুন মাস শুরুর জন্য সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ও সূর্যের কৌণিক দূরত্ব কমপক্ষে ৮ ডিগ্রি এবং দিগন্তের ওপরে চাঁদের উচ্চতা অন্তত ৫ ডিগ্রি হতে হয়।

এফসিএনএর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সূর্যাস্তের আগেই রমজানের নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং ওই দিনেই নির্ধারিত শর্ত পূরণ হবে। ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকেই হিজরি ক্যালেন্ডারের নবম মাস রমজান গণনা শুরু হবে।

শাওয়াল মাসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে সংস্থাটি। ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং তখন চাঁদের অবস্থান ও কৌণিক দূরত্ব দৃশ্যমান হওয়ার উপযোগী থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এফসিএনএ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার চেয়ে সৌদি আরবের মক্কায় হজ কর্তৃপক্ষ ঘোষিত আরাফার দিনের ওপর নির্ভর করবে। আরাফার পরদিনই ঈদুল আজহা পালিত হবে।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা একটি অলাভজনক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মুসলমানদের ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদানসহ চন্দ্র ক্যালেন্ডার নির্ধারণে সংস্থাটির সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঘোষণার শেষাংশে সংস্থাটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেছে। আগাম এই ঘোষণার ফলে উত্তর আমেরিকার মুসলমানরা রমজান ও ঈদকেন্দ্রিক ধর্মীয় প্রস্তুতি আগে থেকেই গ্রহণ করতে পারবেন।