রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ অন্যান্য

রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ড আহ্বায়কের আহ্বান


প্রকাশ :

সুপ্রিয় রনাঙ্গনের বীরমুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা,

আমার সংগ্রামী শুভেচ্ছা নিবেন। গত ১সেপ্টেম্বর’ ২৫ আমাকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের লালমনিরহাট ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। জেলা ইউনিট কমান্ড ৪টি উপজেলা কমান্ডের আহবায়ক কমিটি গঠন ও অনুমোদন দিয়েছে। উপজেলা আহবায়ক কমিটি ইতোমধ্যে অধিকাংশ ইউনিয়ন কমিটির গঠন সম্পন্ন গঠন করে অনুমোদন দিয়েছে।

কতিপয় রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী  অমুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য জেলা ইউনিট কমান্ড কমপ্লেক্স ভবন সহ সদর, হাতীবাদ্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রসাশন এই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এমনকি আমার বিরুদ্ধে বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা, আমার পরিবার রাজাকার ইত্যকার নানারূপ বিভ্রান্তিকর অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন ও সরকারি দপ্তর  সমুহে প্রেরণ করে আসছে।

আমি ভারতের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ  প্রাপ্ত একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা লিডার। আমার বডি নাম্বার ২৫ /১। মুক্তিযুদ্ধ  জাদুঘরে সংরক্ষিত ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রামাণ্য  তালিকায় ১৭৫ নাম্বার খন্ডে ৪২,৯৩৮ ক্রমিকে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমার পিতা  মরহুম অলি উদ্দিন আহমেদ ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমার পরিবারের ৩ জন ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র  মুক্তিযোদ্ধা, অপর ১জন মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড কমপ্লেক্স ভবন ও উপজেলা কমান্ড কমপ্লেক্স ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিল।  যেহেতু এসকল ভবনের চাবি জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট সংরক্ষিত থাকার নিয়ম।এতোদসত্ত্বেও এই সকল চাবি অন্য ব্যক্তিদের কাছে যায় কোন আইনের বলে? তারা কোন ক্ষমতা বলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের লালমনিরহাট  জেলা ইউনিট কমান্ড ভবন কমপ্লেক্স ও ৩টি উপজেলা ভবন কমপ্লেক্স দখল করে আছে।

কতিপয় অমুক্তিযোদ্ধা ও  জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কতিপয় সদস্যের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এইচ এম রকিব মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইউনিট কমান্ড কমপ্লেক্স ভবন হস্তান্তর করছে না। জেলা ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে কয়েকবার পত্র দেয়া সত্ত্বেও  থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। যাহা অনভিপ্রেত। জেলা ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে এতদবিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সকল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক কমিটি ইউনিট  কমপ্লেক্স ভবন হস্তান্তর না করায় জেলা প্রশাসকের ৪ নভেম্বর  আহত ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট মুক্ত দিবস, ১৪ ই ডিসেম্বর শহীদ দিবস ও ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিমূলক সভা বর্জন করেছে।

প্রিয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা, আপনারা বিভ্রান্ত না হয়ে দৃঢ়তার সাথে অবস্থান নিন। আমাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন হস্তান্তর করতেই হবে এর কোন বিকল্প নেই।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস, এম শফিকুল ইসলাম কানু  আহ্বায়ক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ   লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ড। মোবাইল :-০১৭১৫০৩৬৮৫২।