রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ অন্যান্য

মূত্রথলির আকার এক হলেও নারীরা বেশি প্রস্রাব করেন কেন?


প্রকাশ :

"আবারও থামতে হবে?" – গাড়ি ভ্রমণে এমন অভিযোগ নারীদের উদ্দেশ্যে প্রায়শই শোনা যায়। জনপ্রিয় সংস্কৃতি, কমেডি কিংবা দৈনন্দিন আলাপে নারীদের বারবার টয়লেট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা-রসিকতা নতুন নয়। কিন্তু সত্যিই কি নারীদের মূত্রথলি ছোট হয়?

সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো—না। নারীদের মূত্রথলির আকার পুরুষদের মতোই। তবে শারীরিক গঠন, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবস্থান, হরমোন ও সামাজিক অভ্যাস মিলিয়ে এই পার্থক্য গড়ে ওঠে।

নারী ও পুরুষের মূত্রথলির মধ্যে পার্থক্য কী

গাঠনিকভাবে নারী ও পুরুষ উভয়ের মূত্রথলির ধারণক্ষমতা প্রায় সমান—৪০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার। তবে পার্থক্য তৈরি হয় মূত্রথলির চারপাশের অঙ্গের কারণে।

পুরুষদের মূত্রথলি প্রোস্টেট গ্রন্থির ওপর এবং মলদ্বারের সামনে থাকে। অন্যদিকে নারীদের মূত্রথলি থাকে সংকীর্ণ পেলভিক অঞ্চলে, যেখানে জরায়ু ও যোনির মতো অঙ্গগুলোও অবস্থান করে।

গর্ভাবস্থায় বড় হতে থাকা জরায়ু মূত্রথলিকে চেপে ধরায় নারীদের প্রায়ই বারবার টয়লেট যেতে হয়। এমনকি গর্ভাবস্থা না থাকলেও এই সংকীর্ণ জায়গার কারণে সামান্য প্রস্রাব জমলেও নারীরা তাগিদ অনুভব করেন।

পেলভিক ফ্লোর নামক পেশিগুচ্ছ মূত্রথলি, জরায়ু ও অন্ত্রকে সমর্থন দেয়। বয়স, প্রসব বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই পেশি দুর্বল হয়ে গেলে প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।

এছাড়াও, নারীদের মূত্রনালী ছোট হওয়ায় ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই-এর ঝুঁকি বেশি, যা মূত্রথলিকে অতিসংবেদনশীল করে তোলে। সংক্রমণ সেরে গেলেও বারবার প্রস্রাবের অনুভূতি থেকেই যেতে পারে।

'আগে ভাগে যাও'—অভ্যাস ও সামাজিক প্রভাব

শুধু শারীরিক কারণই নয়, সামাজিক আচরণও নারীদের টয়লেট ব্যবহারে প্রভাব ফেলে। ছোটবেলা থেকেই অনেক মেয়েকে শেখানো হয়—"আগে ভাগে বাথরুমে যাও", "পাবলিক টয়লেট এড়িয়ে চলো"।

ফলে তারা প্রয়োজন হওয়ার আগেই প্রস্রাব করে ফেলতে শেখে। এতে মূত্রথলি পুরোপুরি প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পায় না।

অন্যদিকে, ছেলেদের অপেক্ষা করতে শেখানো হয়। তাই তাদের মস্তিষ্ক ও মূত্রথলির মধ্যে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়ে যায় বেশি স্থিতিশীল।

পাবলিক টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও নারীদের মধ্যে একটি উদ্বেগ থাকে। এতে করে তারা টয়লেটের ব্যবহার এড়িয়ে চলে বা আগে থেকেই 'সতর্কতা' হিসেবে প্রস্রাব সেরে নেয়।

মূত্রথলির সহ্যক্ষমতা বাড়ানো কি সম্ভব?

হ্যাঁ, মূত্রথলির আকার না বাড়ালেও সহ্যক্ষমতা বাড়ানো যায়।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় “Bladder Training” বা মূত্রথলি প্রশিক্ষণ। যুক্তরাজ্যের NHS ও British Association of Urological Surgeons এ পদ্ধতির প্রশংসা করে থাকে।

এই প্রশিক্ষণে ধাপে ধাপে বাথরুমে যাওয়ার সময়ের ব্যবধান বাড়ানো হয়। এতে মস্তিষ্ক ও মূত্রথলির মধ্যে স্বাভাবিক সংকেত আদান-প্রদান পুনরায় স্থাপন হয়। পাশাপাশি পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ যুক্ত করলে এর কার্যকারিতা আরও বাড়ে।

বিশেষ করে যাদের হাঁচি-কাশি বা হাঁটার সময় প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য এটি একটি অস্ত্রোপচারবিহীন কার্যকর সমাধান হতে পারে।

নারীদের মূত্রথলি ছোট—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিক নয়। তবে শরীরের গঠন, হরমোনের প্রভাব, সংবেদনশীলতা ও সামাজিক আচরণের সম্মিলিত প্রভাবে নারীরা পুরুষদের তুলনায় তুলনামূলক ঘনঘন প্রস্রাবের অনুভূতি পেতে পারেন।

তাই, কেউ বারবার টয়লেট গেলে সেটিকে ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা বা “অতিরিক্ত আদিখ্যেতা” ভেবে হেয় করা উচিত নয়। বরং এটিকে বোঝা দরকার একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ও সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে।