রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ অন্যান্য

মওলানা ভাসানীকে নিয়ে জামায়াত ইসলামীর আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদ


প্রকাশ :

সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রেডিক্যাল কিছু কথা বলে বেশ আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি লন্ডনে সাংবাদিক সম্মেলনকালে তিনি মওলানা ভাসানীকে নিয়ে কিছু প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। তিনি বলেন, “মওলানা ভাসানী সাহেব, বাংলাদেশের রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি কিন্তু ভারতে গিয়েছিলেন যুদ্ধ করার জন্য; চারদিনের বেশি থাকতে পারেন নাই, তার জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তিনি বাধ্য হয়েছিলেন ফিরে আসতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। কারণ, তার নামের আগে মওলানা ছিল।"

প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭১ সালে সন্তোষ এবং বিন্যাফৈরে হানাদার বাহিনী কর্তৃক মওলানা ভাসানীর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার প্রেক্ষাপটে ১৭ এপ্রিল তিনি ভারতে প্রবেশ করেন এবং অন্তরীণ হয়ে পরেন। অন্তরীণ অবস্থায়ও তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের কাছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। পত্র পত্রিকার বিবৃতি দিতে থাকেন। দুঃসময়ে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন। ২২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। কাজেই 'চার দিনের বেশি থাকতে পারেন নাই' কথাটি সত্য নয়। তবে তিনি যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন নাই। তাই বলে মুক্তিযুদ্ধে মওলানা ভাসানীর অবদানের সঙ্গে জামায়াতের ভূমিকা কখনোই তুলনীয় নয়। তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত নির্মাতা। 

“শুধু জামায়াত না, যারা ইন্ডিয়ায় যেতে পারেনি তারা সকলেই পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু বাকিদের প্রসঙ্গ আসে না। আমাদের প্রসঙ্গটা আসে,”— তার এই কথাটিও সত্য নয়। কারণ দেশের অভ্যন্তরে থেকে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। টাঙ্গাইলে কাদেরীয়া বাহিনী, শিবপুরে মান্নান ভূঁইয়ারা, বরিশালে সিরিজ শিকদার গ্রুপ, ঢাকায় সাদেক হোসেন খোকাসহ অসংখ্য গেরিলা যোদ্ধারা জানবাজি লড়াই করেছেন। কাজেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জুলুমের পক্ষাবলম্বন করা জামায়াত ইসলামী কোনোভাবেই একাত্তরে তাদের ভূমিকা জাস্টিফাই করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ইসলামী ‘বাধ্য হয়ে’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়েছে বলে দাবিও ধোপে টেকে না। বরং একাত্তরে জুলুমের পক্ষাবলম্বনের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াই তাদের জন্য রেডিক্যাল গণ্য।

এছাড়া মওলানা ভাসানী সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, “তিনি কিন্তু সে অর্থে কোন মাদ্রাসায় পড়ুয়া মানুষ না। চর্চা ছিল তার ইসলামের ওপরে কিছুটা। তার বেশভূষা ছিল মুসলমানদের মত। তিনি একটি বিশেষ কায়দার টুপি পরত আর খদ্দরের পাঞ্জাবি পরত। তার সহকর্মীরা তাকে মওলানা বলে অভিনন্দিত করত এবং তিনি সেটাতে কমফোর্ট ফিল করতেন। সেই লোকটাকে ভারত সহ্য করে নাই আর আমারে সহ্য করত?...।”

এখানে প্রচ্ছন্নভাবে মওলানা ভাসানীকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। মওলানা ভাসানী ১৯০৭ সাল থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত দেওবন্দে পড়াশুনাকালে একইসঙ্গে মওলানা মাহমুদুল হাসান, হোসাইন আহমেদ মাদানীসহ প্রমুখের সান্নিধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী রাজনীতির তালিম নেন। "চর্চা ছিল তার ইসলামের ওপরে কিছুটা" এবং "তার বেশভূষা ছিল মুসলমানদের মত" শব্দচয়নগুলোও আপত্তিকর। আমি এই শব্দচয়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে জামায়াত ইসলামীকে একাত্তরে তাদের ভূমিকার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।