রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ অন্যান্য

ইসকন নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, দাবি সম্মিলিত সনাতন পরিষদের


প্রকাশ :

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর, উপাসনালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নি-সংযোগ ও লুটপাট এবং ইসকন সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন পরিষদ। শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন।

সংগঠনের নেতাদের দাবি, ১৯৪৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সনাতন সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর-মন্দির ভাঙ্চুর, সম্পদ লুণ্ঠন, হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণ, ধর্মান্তরিত ও ধর্মীয় অবমাননার অজুহাতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু একটি ঘটনারও সঠিক বিচার পাওয়া যায়নি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও অত্যাচারের পরও সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার তেমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সনাতন সম্প্রদায়ের অস্থিত্ব রক্ষায় ৮ দফা দাবি নিয়ে সনাতনী সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও দাবি আদায়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের দুর্গাপূজার একদিন ছুটি ছাড়া তেমন কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ৫ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৮টি ঘটনার চিত্র তুলে ধরলেও সরকার বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘটনাগুলোকে অস্বীকার এবং ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যা সনাতনী সম্প্রদায়কে মর্মাহত ও ব্যথিত করেছে।

বর্তমান সরকার উক্ত ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কোন তদন্ত কমিশন এখনও গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেনি অভিযোগ করে সংগঠনটি বলছে, যা খত্যান্ত দুঃখজনক, হতাশা, বৈষম্যমূলক ও বিমাতাস্বরূপ আচরণ বলে সনাতনীয় সম্প্রদায় মনে করে। যা জুলাই আগস্টের বৈষম্যবিরোধী সফল আন্দোলন ও বিপ্লব-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও সেবামূলক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-কে নিষিদ্ধ করার কথা বলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টসহ দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন। এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

সংগঠনের নেতারা বলছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ঢালাওভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে। 

বিভিন্ন জায়গায় সরকারি চাকরি থেকে সনাতনীয় সম্প্রদাদের লোকদের চাকরিচ্যুতকরণ, নতুন সরকারি নিয়োগগুলোতে ও সংস্কার কমিটিগুলোতে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব না থাকা, সরকারি বিভিন্ন দফতরে চাকরিরত সনাতনীয় সাম্প্রদায়ের লোকদের ও সনাতনী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গণহারে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সনাতনী শিক্ষকসহ সব শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত ও লাঞ্ছনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান সংগঠনের নেতারা। একইসঙ্গে অনতিবিলম্বে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠানে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হারেও নাম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ আচার্য্য, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জে কে পাল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়, বাংলাদেশ হিন্দু ল'ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শংকর কুমার দাস এবং বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র সাজন কুমার মিশু।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশনের সভাপতি করন সরকার, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দাস, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির (বিএসপি) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রাণতোষ তালুকদার, বাংলাদেশ হিন্দু লীগের সাধারণ সম্পাদক শংকর গরকার, ভক্ত সংঘ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জানন পাল, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ জোটের মুখপাত্র শ্যামল ঘোষ প্রমুখ।