পৃথিবীর আদি পেশা কৃষি। কৃষির উপর নির্ভর করে পৃথিবীর মানুষ বেঁচে থাকে। কৃষি কাজের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসল মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। অন্যান্য পেশা মানুষকে শুধু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে দেয় যা না হলেও মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারে আর বিজ্ঞান সব সময়ই মানুষের সেবা প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। বিজ্ঞানের আবিষ্কার না হলেও মানুষের জীবন থেমে যায় না কিন্তু কৃষি জীবন মরণের সঙ্গে সম্পর্ক। কৃষি উৎপাদন না হলে মানুষ বাঁচে না। যেমন বাংলা ৫৪ এর দুর্ভিক্ষ ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষে মানুষের মৃত্যু এদেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। অথচ আম্যাজান জঙ্গলে বিজ্ঞানের কোন সুযোগ সুবিধা ছাড়াই হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ সেখানে বসবাস করছে। তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না। বাংলাদেশে সেই মৌলিক পেশা কৃষি এখন সমস্যা গ্রস্ত। কৃষিতে ক্রমাগত লোকসান হওয়ায় জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ফলে তারা নিজেরা কৃষি ছেড়ে জমি অনাবাদী রাখছেন। এতে অচিরেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিবে। কেন এমন হচ্ছে তার কিছু কারণ উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা হলঃ-
(১) কৃষি শ্রমিকের সংকট-কৃষির জন্য কৃষি শ্রমিক আবশ্যকীয় উপাদান। কৃষিতে ব্যবহারের জন্য বিজ্ঞান যতই যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করুক তা ব্যবহারের জন্য মানুষ দরকার আর মানুষই হল তার আসল শক্তি। মানুষই হল মুখ্য শ্রমিক। বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোটায়। শুধুমাত্র নদীর চরের অধিবাসী কিছু মানুষ সারা দেশে এ সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে তবে বিজ্ঞানের অবদানে নদীর চরে মানুষের সহজ চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তাদের সংখ্যাও ক্রমেই কমছে। অচিরেই কৃষি শ্রমিকের অভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে। শ্রমিক সংকটের কারণে অধিক খরচে শ্রমিক নিয়োজিত করায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে যা পন্য বা ফসল বিক্রির মাধ্যমে উঠে না। বর্তমানে একজন কৃষি শ্রমিক দৈনিক কমপক্ষে ৫০০/টাকা থেকে ১৫০০/ টাকা পর্যন্ত মজুরি নিচ্ছেন। তার মানে একজন শ্রমিক দৈনিক একমন ধানের মুল্যের সমপরিমাণ মজুরি নিচ্ছেন। একবিঘা জমিতে সাধারণত ১৫-২০ মণ ধান উৎপাদন হয় আর তা রোপন থেকে গুদামজাত করন পর্যন্ত শ্রমিক দরকার ১০-১৫ জন। শুধু শ্রমিকের মজুরি বাবদ ১০-১৫ মণ ধান বিক্রি করতে হয়। বীজ সার ঔষধ পানি যন্ত্রপাতির ভাড়াতো আছেই। যার খরচ বাদ দিলে লোকসান বাধ্যতামূলক।
কেন এমন হচ্ছে- কৃষি কাজ যেহেতু অন্যান্য কাজ থেকে কষ্টকর তাই অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষগুলো এই কাজ যুগ যুগ ধরে করে চলছে। শিক্ষিত মানুষেরা এই ধরনের কাজ করতে চায় না। দেশের বিগত সরকারগুলোর অপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা এমন এক ধরনের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করেছে তাদের বেশির ভাগই জ্ঞানে শিক্ষিত নয় কিংবা ধনে ধনী নয় গরিব মানুষ। কিন্তু তারা নিজেদের শিক্ষিত ভেবে চাকরির আশায় সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর হতাশায় নেশাগ্রসত হচছে। তাদের কারনে কৃষি শ্রমিকের ব্যাপক সংকট দেখা দিচ্ছে।
কিভাবে হতে পারে এ সমস্যার সমাধান-দেশে কৃষি শ্রমিকের অভাব পূরণে জরুরি ভিত্তিতে সার্টিফিকেটধারী বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি কাজে উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা মুলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যেমন মেধাবীদেরই শুধু উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের শুরুতেই কৃষি শিক্ষায় শিক্ষিত করে মাঠে নামানোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কৃষি যেহেতু ঝুঁকিপূর্ণ পেশা তাই বেকারদের বিভিন্ন প্রণোদনা মুলক কাজে নিয়োজিত করা। চীনের মাও সেতুং নীতি গ্রহণ করা যেমন তিন বা পাঁচ বছর কোন চাকরি হবে না যার যা আছে তা নিয়েই চিন্তা করে বা গবেষণা করে একটা কিছু আবিষ্কার করে আয় করার নীতি গ্রহণ করা। তা কৃষি, শিল্প, আবিষ্কার যে কোনটাই হতে পারে। কোন মানুষই বেকার থাকতে পারবে না নীতি গ্রহণ করা। কোন জমি পরে থাকলে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করা বা বাজেয়াপ্ত করা ইত্যাদি। (বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে)
লেখক মুহাম্মদ ইয়ার আলী
স্বত্বাধিকারী
আলী ফ্রুটস এন্ড ভেজিটেবলস কোল্ড স্টোরেজ,
কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট
নেতা দেশ প্রেমিক কি না যাচাই করার উপায়
১ সপ্তাহ আগে
কিস্তির বেড়াজালে গ্রাম
২ সপ্তাহ আগে
লালমনিরহাট জেলা-শিল্প উন্নয়নে বাধা-২
৩ সপ্তাহ আগে
হারিয়ে যাচ্ছে পীরতন্ত্র
৩ সপ্তাহ আগে