বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

নেতা দেশ প্রেমিক কি না যাচাই করার উপায়


প্রকাশ : (১০ ঘন্টা আগে)
নেতা দেশ প্রেমিক কি না যাচাই করার উপায়

বাংলাদেশে যেহেতু রাজনৈতিক নেতাদের কথা ও কাজের প্রতি মানুষের বিশ্বাস বা আস্থার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। নেতারা দেশপ্রেমিক কিনা সে ব্যাপারে মানুষের মনে সন্দেহ দানা বেঁধে উঠছে। রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশের জনগণকে দেশ সেবা করার জন্য যখন আহ্বান জানাচ্ছেন মানুষ তাতে তেমন কোন সাড়া দিচ্ছে না, উল্টো মানুষ নেতাদেরকেই দেশ প্রেমিক কি না সন্দেহ করছে । দীর্ঘদিন থেকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনগণের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোর স্পৃহা ক্রমাগত ভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এর পিছনে কিন্তু নেতাদের কথা ও কাজের প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে বাংলাদেশকে যে সমস্ত নেতারা শাসন করেছেন অথবা শাসন করার চেষ্টা করেছেন অথবা শাসনের জন্য মানুষকে আহবান জানিয়েছেন তাদের সবার কার্যক্রমের খুঁটিনাটি হয়তো পর্যালোচনা করা সম্ভব নয় তবে মোটামুটিভাবে কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে তারা জনগণকে যে সমস্ত কথা বা  বিষয়ে আহবান জানিয়েছেন কিংবা দেশ শাসনের ক্ষমতা পেলে যে সমস্ত কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছেন তার বাস্তবায়নের হার কিংবা  ভুলে যাওয়ার কাহিনী মানুষকে তাদের প্রতি আস্থা হীনতায় যেতে বাধ্য করেছে। যেমন ধরি দেশ স্বাধীনের মূল চেতনা  ছিল ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন,১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং তার সাথে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা যা মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল কিন্তু দেশ স্বাধীনের পরে তা বাস্তবায়নে  নেতাদের অনীহা মানুষকে হতাশ করেছিল,আবার ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান কর্তৃক জাতিকে দেওয়া ১৯ দফা প্রতিশ্রুতি দেশের ক্ষমতায় থাকার সময় তার উত্তরসূরিদের  কার্যকরের হার, ১৯৯০ সালের ছাত্রদের ১০ দফা পরবর্তী সরকারের বাসতবায়নের হার,
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কর্তৃক জাতিকে দেওয়া ১৮ দফা কর্মসূচি (বা দাবি)র বাস্তবায়নের হার এবং  বিদ্যমান সরকারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে কেউই জাতিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বা করেন না । তার মানে নেতারা যা বলেন বাস্তবায়নে তা তারা করতে চায় না। জাতীয় নেতারা যখন জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেন নিশ্চয়ই তার প্রভাব সমাজের সকল স্তরের নেতাদের মধ্যেই পরে। যার কারণে সমাজের  সকল স্থরের নেতারাই এখন নির্বাচনের পূর্বে জনসাধারণের কাছে যে সমস্ত ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন ক্ষমতা পেলে বা ক্ষমতায় গেলে তা বাস্তবায়নে ভুলে যাচ্ছেন,এর কারণে দেশের মানুষ নেতাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় নেতাদের দেশ প্রেম আছে কিনা তা প্রমাণের জন্য কয়েকটি লক্ষণ জনসাধারণের বিবেচনার জন্য পেশ করা হল। আশা করি জনগণ এই এসিড টেস্টের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন সেই নেতা দেশ প্রেমিক কিনা।
(১) যদি দেখেন জাতীয় নেতারা ঘন ঘন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন তাহলে বুঝতে হবে যে তিনি এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখেন না। তাহলে অবশ্যই তিনি আস্থায় দেশপ্রেমিক নন। কারণ তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন বা আছেন তখন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে কেন উন্নত করেনি বা করছেন না ? 
ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশী ডাক্তার ডেকে এনে দেশে চিকিৎসা করাতে পারতেন বা পারেন কেন তা করছেন না ? 
আধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ক্রয় করে দেশে চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে পারতেন বা পারেন কিন্তু তা না করে কেন বিদেশে যাচ্ছেন ? 
চিকিৎসার নামে তিনি কি দেশের টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বা পাচার করছেন  ? 
ভাবছেন কি অন‍্য দেশের নেতাদের কেন এমন হচ্ছে না ?
(২) যদি দেখেন যে নেতাদের ছেলে-মেয়েরা সাধারন শিক্ষার জন্য ( উচ্চ শিক্ষা নয়) বিদেশে লেখাপড়া করতে গেছে অথচ তাদের ট্যাক্স ফাইলে আয়ের তেমন কোন উৎস নেই কিংবা ছেলেমেয়েদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস নেই। তাহলে ভাবুন কেন তারা এই ধরনের কাজ করছেন বা করেন ? দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা না থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করুন কিংবা উন্নত করুন কিন্তু তা না করে নিজের ছেলেমেয়েদেরকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে জনগণকে দেশে লেখাপড়া করার জন্য উদ্বুদ্ধ করার নৈতিক অধিকার আপনার আছে কি? এর মাধ্যমে সাধারণভাবে জনগণের মনে প্রশ্ন আসে নিশ্চয়ই তারা ছেলেমেয়েদের বিদেশী লেখাপড়ার নামে এদেশের টাকা পাচার করেন এবং বিদেশে বাড়ি গাড়ি করার জন্য তারা একটি পথ সৃষ্টি করে রাখেন। ফলে অবশ্যই তিনি দেশ প্রেমিক হতে পারেনা।

(৩)যদি দেখেন  নেতাদের প্রকাশ্য আয়ের উৎস  নাই  কিংবা তার যথাযথ ব‍্যাখা নাই অথচ বছর বছর সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাহলে ভাবতে পারেন তিনি চাঁদাবাজ,চোর,ডাকাত বা দেশের আমানতের খেয়ানত কারি ইত্যাদি। সাধারণভাবেই প্রশ্ন আসে যাদের আয়ের প্রকাশ্য কোন উৎস নেই তাদের উচ্চ জীবনযাত্রা,গাড়ি বাড়ি ইত্যাদির উৎস বৈধ নহে। তাই তাদের দেশ প্রেমিকতার পরিচয় পাওয়া কঠিন।

লেখক: মুহাম্মদ ইয়ার আলী

বিজ্ঞাপন