মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

দুই ছেলে কীভাবে চারজনকে হত্যা করল? পেছনে আরও কেউ নেই তো? মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের মা-বাবাদের প্রশ্ন


প্রকাশ : (৫ ঘন্টা আগে)
দুই ছেলে কীভাবে চারজনকে হত্যা করল? পেছনে আরও কেউ নেই তো? মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের মা-বাবাদের প্রশ্ন

রংপুরের জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই এলাকার মুগ্ধ (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থকে আটকের কথা জানায় পুলিশ। রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তানদের জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ ঘটনার সঠিক তদন্ত চেয়েছেন। তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাদের সন্তানরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা কানু দাস বলেছেন, যদি এ ঘটনার সঙ্গে তার ছেলে জড়িতই থাকত, তাহলে সে কি বাড়ি থাকত? তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি নিজেই ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে পুলিশের কাছে দিয়েছেন। একই কথা বলেছেন গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাসের মা সেনা দাস। তার প্রশ, দুজন ছেলের পক্ষে কীভাবে চারজনকে হত্যা সম্ভব হয়েছে। রোববার ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটকের কথা জানায় পুলিশ।
সিদ্ধার্থ নগরীর পিকে জুয়েলার্সে কাজ করেন। আর মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানের কর্মী। রোববার তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য। আগের দিন দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ মিয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুঁতবাগানে লুকিয়ে ছিল। পরে তুঁতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, হত্যাকান্ডের পর ওই ভবনে বসে খুনিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন এমন আলামতও পাওয়া গেছে।
সিদ্ধার্থ দাসের বাবা কানু দাস সোমবার তার বাড়িতে সাংবাদিকদের বলেন, সেদিন রাতে লাশ উদ্ধারের সময় তারাও সেখানে ছিলো। গভীর রাতে পুলিশ এসে আশপাশের বাড়িগুলো কার, তা জানতে চায়। পরে ছেলে মুগ্ধর কথা জানতে চায়, তাকে ডেকে আনতে বলে। মুগ্ধ তার ভাইয়ের বাসায় ঘুমিয়েছিল। তখন তিনি পুলিশকে নিয়ে সেখানে যান এবং ছেলেকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে দেন। পুলিশ তাকে মুগ্ধকে চেনে কিনা জিজ্ঞাস করে। তখন ছেলের গায়ে একটা ঘিয়ে রংয়ের গেঞ্জি ছিল। সেটা পরেই সে ঘুমিয়েছিল সেটা পরেই সে পুলিশের সঙ্গে গেছে। পুলিশ সিদ্ধার্থকে নিয়ে মুগ্ধের বাসায় যায়। কানু দাস নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। এর ঘণ্টাখানেক পরে তিনি জানতে পারেন ছেলেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। জানানো হয় ইয়াবা খেয়ে সে নাকি খুন করেছে।
কানু দাস বলেন, আমার ছেলেতো নেশা গ্রস্থ ছিল না। এমন কোনোদিন কিছু দেখিনি। কারণবশত যদি হয়েও যায়, আমি আর কীভাবে বলব। কে কখন নেশা করে কেউ কি বলতে পারবে? কে চায় না তার ছেলে ভালো থাকুক। আমার ছেলের চুরি-ধারি বা এসবের কোনো রিপোর্ট নাই। হাসিখুশি একটা ছেলে। ছোটদের সঙ্গে খেলাধুলা করত। এলাকায় গিয়ে আপনারা জিজ্ঞাস করেন। বৃহস্পতিবার রাতে খাবার-দাবারের পর ছেলেকে ঘুমাতে যেতে বলি। তখন ছেলে বলে, সিদ্ধার্থের সঙ্গে থাকব। ছেলেরতো বন্ধু। সিদ্ধার্থও আমার বাসায় অনেক থেকেছে। ও তার বাসায় গিয়ে থাকে। ওরা দুজন একসঙ্গে বড় হয়েছে। একসঙ্গে থাকতে কোনো বাধা-নিষেধ নেই।
ছেলে খুন করেছে জানলেতো আমি প্রথম থেকেই আতঙ্কিত থাকতাম। তাহলে শুক্রবার বাসায় খাওয়া-দাওয়া বা বাসায় থাকতাম কী করে।
মুগ্ধর মা সেনা দাস বলেন, আমার ছেলে নিয়মিত কাজে যেত বাসায় আসত। ছেলে আমার এত খারাপ ছিল না। মা হয়ে আমি কিছুটাতো বুঝতে পারি। কিন্তু এখন কীভাবে কী হল সেটাই তো বুঝতে পারছি না। ছেলে এই ঘটনা ঘটাতে পারে কিনা জানতে চাইলে মা বলেন, ছেলে দুইটা উপযুক্ত না। নাকি এর পেছনে আরও কেউ আছে সেটা সঠিক তদন্ত করে দেখা হোক। যদি ছেলে এটা করে থাকে, তাহলে সে উচিত শাস্তি পাক। আর আমার ছেলে যদি দোষী না হয় তাহলে তাকে ছাড়া হোক। একটা-দুইটা না চারটা মানুষকে হত্যা করা। দুইটা ছেলে কীভাবে করল সেটাই আমার প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন