কুড়িগ্রামের রাজারহাটে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহের পরিবর্তে অটো রাইস মিলে ধান নেওয়া, লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের হয়রানি এবং চাল সংগ্রহে অস্তিত্বহীন চাতালের নামে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহের লটারিতে ভূমিহীন এবং একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে লটারিতে নির্বাচিত দুই কৃষক রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী কৃষক শাহ আলম মিয়া ও চন্দন কুমার রায় বলেন, লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর তারা সরকারি গুদামে ধান নিয়ে গেলেও তাদের ধান গ্রহণ করা হয়নি।
তাদের অভিযোগ, গত ১৯ জুন বস্তা সংকটের কথা জানিয়ে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তারা জানতে পারেন, সরকারি গুদামের পরিবর্তে রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের একটি অটো রাইস মিলে ধান সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, এ বিষয়ে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের টোকেন দেওয়া হয় এবং ফরকেরহাট অটো রাইস মিলে ধান সরবরাহ করতে বলা হয়। ধান সরবরাহের পর টোকেনটি গুদাম কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অটো রাইস মিলে ধান নেওয়ার সময় কোনো সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা করা হয় এবং ধানের মান নিয়ে আপত্তি তুলে তাদের কাছ থেকে তিন বস্তা ধান কর্তন করা হয়।
তবে কৃষকদের এসব অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন রাজারহাট উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, গুদামঘরেই ধান নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোছা. মাসুদা বেগম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
অন্যদিকে, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনীম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহে কৃষকদের হয়রানি, গুদামের পরিবর্তে অটো রাইস মিলে ধান সরবরাহ এবং লটারির তালিকা ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ—এসবের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে প্রশাসনিক তদন্তেই। এখন অপেক্ষা সেই তদন্তের ফলাফলের।