শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

রংপুর মেডিকেলের করোনারি কেয়ার ইউনিটেরঅধিকাংশ এসি বিকল ফ্যান ধীরে ঘোরে রোগীদের ভোগান্তি চরমে


প্রকাশ : (১৬ ঘন্টা আগে)
রংপুর মেডিকেলের করোনারি কেয়ার ইউনিটেরঅধিকাংশ এসি বিকল ফ্যান ধীরে ঘোরে রোগীদের ভোগান্তি চরমে

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ)বিভাগের বেশির ভাগ এয়ার কন্ডিশন (এসি)শীতল বায়ু প্রবাহের যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে। এতে হৃদরোগে আক্রান্তরা সেবার বদলে গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।ওয়ার্ডের সিলিং ফ্যানগুলোর অবস্থাও নাজুক অধিকাংশ বিদ্যুতিক সিলিং ফ্যান প্রয়োজনের বাতাশের তুলনায় ধীরে ঘোরে। ফলে রোগীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।বেডে রোগীরা নিজ উদ্যোগে টেবিল ফ্যান বসিয়ে গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (আগষ্ট) ঘুরে দেখাগেছে, দ্বিতীয় তলায় হৃদরোগ বিভাগের সাধারণ ওয়ার্ডের (৪ নং) ব্লক এফসি ২১, ৩ নংসহ অন্যান্য ব্লক ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেক বেডে রোগীরা নিজ উদ্যোগে টেবিল ফ্যান বসিয়ে গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমা বেগম (৩৫) জানান, তিনি হৃদরোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেনারেল ওয়ার্ডে কোনো এসি নেই। এমনকি যে ফ্যানগুলো আছে এর অধিকাংশই খুব ধীরে ঘোরে। তাই গায়ে মৃদু বাতাস লাগে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হৃদরোগে আক্রান্ত  আনোয়ারা বেগম জানান, সন্ধ্যার পর হাসপাতালের কক্ষগুলো থেকে গরম বাতাশ বের হতে থাকে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ নং ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সিনিয়র নার্স আঞ্জুমান আরা বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরে এসি নেই। শুনেছি যে এসিগুলো স্থাপন করাছিল তা অনেকদিন আগে খুলে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে রোগী আছে ১‘শ জন। মাঝে মাঝে রোগীর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে যায়।এ ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ২৪ জনের। হৃদরোগ বিভাগের ৩৬ নং ওয়ার্ডের পোস্ট সিসিইউ ১, পোস্ট সিসিইউ ২ ও ফিমেল ওয়ার্ডসহ প্রত্যেক কক্ষে রয়েছে তিন-চারটি করে এসি।প্রতিটি এসিই বিকল হয়ে  আছে দীর্ঘদিন থেকে।
রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের  ভর্তি রোগী আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডটিতে স্থাপন করা প্রতিটি এসিই বিকল। শুধু তা-ই নয়, সিলিং ফ্যান গুলো খুর ধীরে ধীরে ঘোরে। এতে গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস অবস্থা। 
রংপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেনারেল ওয়ার্ডে কোনো এসি নেই।পেয়িং বেড (পোস্ট সিসিইউ ১, পোস্ট সিসিইউ ২ এবং ফিমেল ওয়ার্ডে) এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসিগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের রাখার জায়গার এসি গুলো সচল আছে।
নাম গোপন রাখার শর্তে রংপুর গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী জানান, পেয়িং বেডের এসিগুলো গণপূর্ত থেকে স্থাপন করা হয়নি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কতৃপক্ষ নিজেরাই স্থাপন করেছে। ফ্যান ধীরে ঘোরার বিষয়টি তারা অবগত। মাঝে মাঝে সেগুলো সংস্কার করা হয় ।গত বছর ১০০টি নতুন ফ্যান লাগানো হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) অপারেশন থিয়েটারের এসি সংস্কার করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে হৃদরোগ বিভাগের এসি সংস্কারের অনুমোদন চাওয়া হবে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, হৃদরোগ বিভাগে সিভিয়ার রোগীদের যেখানে রাখা হয় সেখানকার এসি সচল আছে। অবশ্য গণপূর্ত বিভাগ থেকে এরই মধ্যে অপারেশন থিয়েটারের এসি সংস্কার করেছে। হৃদরোগ বিভাগে অন্য বিকল এসি ঠিক করার জন্য গণপূর্ত বিভাগে চাহিদা দেয়া হয়েছে।  

বিজ্ঞাপন