বাংলা লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ও ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর স্বজন, গুণগ্রাহী ও অসংখ্য ভক্তের প্রতি সমবেদনা এবং তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করা হচ্ছে।
আব্বাসউদ্দীন আহমদ ভাওয়াইয়া গানকে দেশ-বিদেশে পরিচিত করে তুলতে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। তাঁর দরাজ কণ্ঠ ও অনন্য গায়কিতে বাংলা লোকসংগীত সমৃদ্ধ হয়েছে। ভাওয়াইয়ার পাশাপাশি তিনি মারফতি, পল্লিগীতি, জারি, সারি, মুর্শিদি, বিচ্ছেদি, দেহতত্ত্ব, মর্সিয়া, আধুনিক, স্বদেশি, ইসলামি, উর্দু ও পালাগানসহ বিভিন্ন ধারার গান গেয়েছেন।
১৯০১ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্বাসউদ্দীন আহমদ। তাঁর বাবা জাফর আলী আহমদ পেশায় আইনজীবী ছিলেন। মায়ের নাম হিরামন নেসা।
ব্যক্তিজীবনেও আব্বাসউদ্দীন ছিলেন সংগীতের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিকনমাটি গ্রামের লুৎফুন্নেসার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। প্রচলিত একটি স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, বিয়ের পর বাসর ঘরেই স্ত্রী লুৎফুন্নেসা তাঁর কাছে গান শুনতে চেয়েছিলেন। আব্বাসউদ্দীন বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই গান গেয়ে তাঁকে মুগ্ধ করেন। পরবর্তী জীবনেও তাঁর সংগীতসাধনায় স্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে পাশে ছিলেন।
তাঁর সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল, লোকসংগীত গবেষক ও শিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী এবং প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌসী রহমান। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আব্বাসউদ্দীন আহমদ মরণোত্তর প্রাইড অব পারফরম্যান্স, শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা অসংখ্য গান আজও বাংলার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। বিশেষ করে ভাওয়াইয়া সংগীতের বিকাশ ও প্রসারে তাঁর অবদান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লোকসংগীতের এই কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসা।