বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপ, চীন-ইরান ইস্যুতে দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা


প্রকাশ : (২ দিন আগে)
বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপ, চীন-ইরান ইস্যুতে দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কঠোর বক্তব্য, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং একাধিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার বার্তা দিতে চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় কয়েকটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাঁর নীতির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে।

বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, ইউক্রেন সংকট এবং মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্য ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। এর মধ্যেই আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের শক্তি ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় তাঁর প্রশাসন সরাসরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই ভাষণে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।

এর পরপরই ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিরল খনিজ ও অন্যান্য কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার বদলে দুই দেশ বিদ্যমান বাণিজ্যবিরতি আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়। শুল্ক, বিরল খনিজ সরবরাহ ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য থেকে যায়।

চীনের সঙ্গে আলোচনায় বিরল খনিজের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, আধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত এসব খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহে চীনের বড় নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ বাস্তবতা ওয়াশিংটনের বেইজিংবিরোধী কঠোর অর্থনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ তৈরি করছে।

তাইওয়ান ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থানগত পার্থক্য রয়ে গেছে। বৈঠকের পর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও এআই, বিরল খনিজ এবং কৌশলগত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং চলমান সংঘাতের বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এক বছর আগের তুলনায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর দরকষাকষির প্রবণতা বেড়েছে। কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো বিভিন্ন প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে প্রকাশ্য মতপার্থক্য দেখাচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব সমালোচনার সঙ্গে একমত নয়। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ অধিবেশন এবং সি চিন পিংয়ের রাষ্ট্রীয় সফর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্কিন অবস্থান শক্তিশালী করার অংশ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চালু করেছে এবং বিরল খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।

ফলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কঠোর পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান বজায় রেখেও চীন, ইরান, ইউক্রেনসহ একাধিক সংকটে কতটা বাস্তব সমঝোতা তৈরি করা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞাপন