রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

জাতিসংঘের লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্ব কী ?


প্রকাশ : (১৬ ঘন্টা আগে)
জাতিসংঘের লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের দায়িত্ব কী ?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তার এই নিয়োগের পর জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসারের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ১৯০টি সদস্য দেশের গোপন ভোটে ৯৯ ভোট পেয়ে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন এবং গত ৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শপথ নেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

খলিলুর রহমানের সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের আওতায় লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করবেন জাইমা রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই পদটি জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় আইন বিভাগের কোনো সাধারণ কর্মকর্তা পদ নয়। সভাপতির কার্যালয়ে থাকা লিগ্যাল অফিসার মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সভাপতির আইনি পরামর্শদাতা

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কোনো প্রস্তাব কীভাবে উত্থাপন করা হবে, কোনো সদস্য রাষ্ট্র পয়েন্ট অব অর্ডার তুললে তার বিষয়ে সভাপতির কী ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত কিংবা কোনো সংশোধনী জাতিসংঘের বিধি ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, এসব বিষয়ে সভাপতিকে পরামর্শ দেওয়া লিগ্যাল অফিসারের অন্যতম দায়িত্ব।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকদের মতে, সাধারণ পরিষদের বিতর্কে সভাপতির নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফিলিস্তিন বা ইউক্রেনের মতো স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সভাপতির সিদ্ধান্ত যাতে জাতিসংঘ সনদ, প্রচলিত বিধি এবং আগের নজিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সে বিষয়ে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কোনো প্রস্তাব জাতিসংঘের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, বাজেট সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না, এসব বিষয়ও যাচাই করতে পারেন লিগ্যাল অফিসার। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের আইন বিভাগ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সভাপতির কার্যালয়ের আইনি সমন্বয়েও তিনি সহযোগিতা করেন।

আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে সভাপতির বক্তব্য ও বিভিন্ন নথির খসড়া তৈরিতেও লিগ্যাল অফিসারের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতির কর্মকাণ্ড যেন জাতিসংঘের আইন, বিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতির মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই দায়িত্বের অন্যতম প্রধান দিক।

সভাপতির কার্যালয়ে ৪০ কর্মকর্তা

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে ২৯টি দেশের ৬টি ভিন্ন ভাষাভাষী মোট ৪০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন।

বাংলাদেশের অন্য পাঁচ কর্মকর্তা হলেন কূটনীতিক মো. আব্দুল আলিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা।

কীভাবে নিয়োগ হয়

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী পেশাদার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সভাপতির নিজস্ব এখতিয়ারেও প্রয়োজনীয় লোকবল যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের পদে সাধারণত আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা রয়েছে অথবা বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।

জাইমা রহমানের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা

জাইমা রহমান যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে যৌথ এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সনদ নেন। তিনি বাংলাদেশেও অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত।

যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন এবং স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ আইনের ক্ষেত্রেও তিনি প্রো বোনো আইনি সহায়তা দিয়েছেন। সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিচার পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা তার কাজের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাইমা রহমানের দায়িত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, এই পদে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা তার রয়েছে। সভাপতির আইনি সহায়তা দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক আইনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র: বিবিসি

বিজ্ঞাপন