মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১০টি মাইন শনাক্ত করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। তবে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এর আগেও হরমুজ প্রণালিতে মাইন থাকার তথ্য উঠে এসেছিল। মার্চ মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সেখানে অন্তত এক ডজন মাইন থাকার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘মাহাম-৩’ ও ‘মাহাম-৭’ ধরনের নৌ-মাইন ব্যবহার করছে। যদিও কিছু কর্মকর্তা মাইনের সংখ্যা আরও কম হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
‘মাহাম-৩’ মাইন চৌম্বক ও শব্দতরঙ্গ শনাক্তকারী সেন্সরের মাধ্যমে জাহাজ সনাক্ত করতে সক্ষম। অন্যদিকে ‘মাহাম-৭’ সমুদ্রতলে স্থাপন করা হয় এবং মাঝারি আকারের জাহাজ ও ছোট সাবমেরিন লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হয়। তবে সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া মাইনগুলোর ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরান উপকূল এড়িয়ে বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় মাইন অপসারণ অভিযান চালাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেন্টাগনের দাবি, গত ২৩ এপ্রিল নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখা হয়েছে। এ কারণে প্রণালিটি ব্যবহারে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতির সতর্কবার্তাও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও এ পথ ব্যবহার করে থাকে।
চলমান উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় মূল্য বেড়ে প্রায় ৪ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।