মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাব পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুরু থেকেই প্রস্তাবটির কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের কর্মকাণ্ডের তুলনায় বর্তমান প্রস্তাবে যথেষ্ট দায়বদ্ধতার প্রতিফলন নেই। তার ভাষায়, ইরানের অতীত আচরণ বিবেচনায় এই প্রস্তাব সহজে গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে ইরানের পাঠানো আরেকটি প্রস্তাবও সরাসরি নাকচ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেন, তেহরানের দেওয়া শর্তে তিনি সন্তুষ্ট নন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান যদি আবার কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর প্রায় ৪০ দিন ধরে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত চলতে থাকে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা পরবর্তীতে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়ানো হয়।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মাধ্যমেই ওয়াশিংটনের কাছে নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও হামলার ইঙ্গিত মূলত ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করলেও নমনীয় হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।