হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দ ও নৌ-অবরোধ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের অভিযান অনেকটা ‘লাভজনক ব্যবসা’র মতো হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অবরোধ কার্যকর করতে গিয়ে মার্কিন বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে তিনি জলদস্যুতার সঙ্গে তুলনা করেন।
শুক্রবার (২ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক একটি ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র জাহাজসহ এর মালপত্র ও জ্বালানি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতো কাজ করছি, তবে এটি কোনো খেলা নয়।”
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম The Times of India জানায়, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপকে সম্ভাব্য হুমকি থেকে রক্ষা করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করলে ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করতে পারত।
তবে কূটনৈতিক সমাধানের পথে বড় বাধা হিসেবে তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের বিভক্তির কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের মতে, দেশটির নেতৃত্বে একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয় থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও এই কৌশলগত জলপথে বিদেশি জাহাজের চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে চলমান উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
সংকট নিরসনে ইরান আগে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে টোল আরোপের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে অবরোধ আরও জোরদার করেছে। দুই পক্ষের অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।