যুদ্ধ বন্ধ ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে ইরান নতুন প্রস্তাব দিলেও তাতে সন্তুষ্ট নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, প্রস্তাবে পরমাণু ইস্যুকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
উত্তেজনা প্রশমনে তেহরান সম্প্রতি তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দেয়, যা পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তেহরান।
প্রস্তাবের প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ইরান ও লেবাননে কোনো আগ্রাসী হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে, এ শর্তগুলো পূরণ হলে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে, আগের দুই ধাপে অগ্রগতি হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এরপর দ্বিতীয় দফা সংলাপের আহ্বান জানায় পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনায় রাজি হলে পরবর্তী সংলাপ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে, যাকে ‘সমুদ্রপথে জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন পরমাণু ইস্যুতে অগ্রাধিকার চায়, অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও অবরোধ প্রত্যাহারকে প্রাধান্য দিচ্ছে।