রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যার ভয়াবহতা: নিহত ৫০০, দুর্ভোগে লাখো মানুষ


প্রকাশ :

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। উদ্ধারকর্মীরা এখনো অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট বিরল ঘূর্ণিঝড় দেশটির তিন প্রদেশে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের দুর্যোগ সংস্থা। নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্তত ৫০০ মানুষ, আহত কয়েক হাজার।

এ বছর এশিয়ার কয়েকটি দেশে বন্যা ও ঝড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কাতেও বহু মানুষ মারা গেছে।

আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এসব জায়গায় হাজার হাজার মানুষ এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরুরি সেবার বাইরে। আচেহের একজন বাসিন্দা পরিস্থিতিকে সুনামির সাথে তুলনা করেছেন। তার ভাষায়, জীবনে এমন ভয়াবহ দৃশ্য আর দেখেননি।

রাস্তাঘাট কাদা ও আবর্জনায় ভরে থাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে গেছে। উদ্ধার কর্মীরা মোটরসাইকেল কিংবা হেঁটে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। পশ্চিম সুমাত্রায় রাস্তা পরিষ্কার করতে খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিবার-পরিজন হারানো মানুষরা উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনদের খবরের জন্য।

খাবারের অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল। অনেকেই কয়েকদিন ধরে না খেয়ে আছেন। উত্তর সুমাত্রার মধ্য তাপানুলিতে খাদ্য নিয়ে মারামারির খবর এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, খাবার শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ইন্টারনেট ও বিশুদ্ধ পানির জন্য কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে অনেককে।

মধ্য আচেহতে জরুরি যোগাযোগের জন্য স্টারলিংক ডিভাইস দেওয়া হয়েছে। সেখানে লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ পরিবার-পরিজনের খবর জানার চেষ্টা করছে। পাঁচ দিন ধরে নেটওয়ার্ক নেই, কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।

উদ্ধারকাজ বাড়লেও সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষোভ জমছে। সমালোচকরা বলছেন, বন্যার আগাম প্রস্তুতি দুর্বল ছিল, আর সাহায্য বিতরণে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন কিছু রাস্তা এখনো বিচ্ছিন্ন, তবে পরিস্থিতি সামলাতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, জাতি হিসেবে সংকট মোকাবিলায় সংহতি ও দৃঢ়তা জরুরি।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে ১১০০ মানুষ মারা গেছে। শুধু শ্রীলঙ্কায় প্রাণ গেছে ৩৫৫ জনের, আর থাইল্যান্ডে ১৭৬ জনের বেশি।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বন্যার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। মৌসুমি বায়ু, ঘূর্ণিঝড় এবং টানা ভারী বৃষ্টিপাত মিলেই বড় বিপর্যয় ঘটিয়েছে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর কারণে সমুদ্র থেকে আর্দ্রতা উঠে আসে এবং ব্যাপক বর্ষণ ঘটায়।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার কারণে বৃষ্টি হয়েছে, আর মালয় উপত্যকায় সুমাত্রা ও থাইল্যান্ডে ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে। এটি বিরল ধরনের ঝড়, সাধারণত ওই অঞ্চলে এভাবে সৃষ্টি হয় না।

ভিয়েতনামেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে, টাইফুন কোটোর শেষাংশ উপকূলে আঘাত হানলে আরও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এসব ঘটনায় ভূমিকা রাখছে। যদিও বেশি ঝড়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে না, তবে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা বাড়বে—এমন সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে।