ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ তুলে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ Telegram-কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকমনডজোর জানিয়েছে, আইন না মানলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, অ্যাপটির বিভিন্ন ‘বট’ ব্যবহার করে নাগরিকদের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করে অবৈধভাবে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে। এসব তথ্য নাশকতা ও সন্ত্রাসমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রুশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার অপরাধ বিভাগ জানিয়েছে, গত এক মাসে এ ধরনের ১৩ হাজারের বেশি অপরাধ ঘটেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন রুবল, যা প্রায় ১৯ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
ডিজিটাল উন্নয়নমন্ত্রী মাকসুত শাদায়েভের দাবি, শিশু পর্নোগ্রাফি ও মাদকসংক্রান্ত ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধও উপেক্ষা করেছে টেলিগ্রাম। এ প্রেক্ষিতে রসকমনডজোর ইতোমধ্যে অ্যাপটির গতি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফেডারেশন কাউন্সিলের সাংবিধানিক আইন কমিটির প্রধান আন্দ্রেই ক্লিশাস সতর্ক করে বলেছেন, আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হলে টেলিগ্রামকে পুরোপুরি ব্লক করা হতে পারে।
এদিকে, Meta Platforms-এর মালিকানাধীন WhatsApp-এর ওপরও সম্প্রতি কড়াকড়ি আরোপ করেছে মস্কো। পরিস্থিতির মধ্যে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় মেসেঞ্জার ‘ম্যাক্স’ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৫ সাল থেকে নতুন সব ডিভাইসে এই অ্যাপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছেন, এমন পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্ল্যাটফর্মে ঠেলে দেওয়া। একই সুরে মেটা কর্তৃপক্ষও এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক সেন্সরশিপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি