রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্বে বড় বদল আনছে কানাডা


প্রকাশ :

কানাডার নাগরিকত্ব আইন বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। বিল সি-৩ নামে নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে জন্ম নেওয়া কানাডীয় বংশোদ্ভূত পরিবারগুলো বহুদিনের জটিলতা থেকে মুক্তি পাবে।

অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডিয়াব জানান, দীর্ঘদিন ধরে থাকা নানা অসঙ্গতি দূর করতেই এই সংশোধন আনা হচ্ছে। তার ভাষায়, বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। পুরোনো নিয়মে বাদ পড়া অনেক মানুষ আবার নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাবেন।

২০০৯ সালে চালু হওয়া ফার্স্ট-জেনারেশন লিমিট ছিল পুরো সমস্যার মূল। এই সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া অনেক শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেত না, যদি তাদের মা–বাবাও বিদেশে জন্মগ্রহণ করতেন। পরে অন্টারিওর সুপিরিয়র কোর্ট এটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে ফেডারেল সরকারও সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।

এই নিয়মের ফাঁদে আটকে যাওয়া মানুষদের প্রায়ই “হারানো কানাডীয়” বলা হতো। বিল সি-৩ সেই হারানো নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি নতুন একটি ব্যবস্থা যুক্ত হচ্ছে—সাবস্ট্যানশিয়াল কানেকশন টেস্ট। এই প্রক্রিয়ায় বিদেশে জন্ম নেওয়া বা দত্তক নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে অভিভাবককে প্রমাণ দেখাতে হবে যে তিনি সন্তান জন্মের আগে কমপক্ষে ১০৯৫ দিন কানাডায় ছিলেন।

নতুন এই মানদণ্ড যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। আইআরসিসিকে প্রস্তুতি নিতে সময় দিতে আদালত ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে। অভিবাসন আইনজীবীদের সংগঠনও এসব পরিবর্তনকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে।

২০০৯ সালের বিধিনিষেধে যে দীর্ঘ সমস্যা তৈরি হয়েছিল, বিল সি-৩ সেই অধ্যায়ের শেষ টানতে যাচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।