রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

গাজা সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ পরিকল্পনা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ


প্রকাশ :

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার সীমানায় বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম শরিম জানিয়েছে, এই ঘাঁটি নির্মাণে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, ঘাঁটিটিতে মোতায়েন করা হবে এক হাজারের বেশি মার্কিন সেনা এবং আধুনিক ভারী অস্ত্রশস্ত্র। ইরানি গণমাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করছে। অনেকে মনে করছেন, এটি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থনেরই নতুন রূপ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে। গত সপ্তাহে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ নিয়ে ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকও হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বজুড়ে যখন নিন্দা বাড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ ‘গোপন কৌশলগত সমর্থন’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের ধারণা, ইসরায়েল হয়তো আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে মিত্রদের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে।

ফিলিস্তিনি নেতারা এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি এক দখলদারিত্বকে অন্য দখলদারিত্ব দিয়ে প্রতিস্থাপনের প্রয়াস। হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা মুসা আবু মারজুক আল জাজিরাকে বলেন, “গাজায় কোনো বিদেশি সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা আমরা কখনোই মেনে নেব না।”

এর আগে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)’ নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেয়। এই বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, কাতার ও মিশরের নেতৃত্বে দুই বছর গাজায় অবস্থান করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সমালোচকদের মতে, পুনর্গঠন ও নিরাপত্তার অজুহাতে গাজাকে কার্যত ‘অস্ত্রহীন অঞ্চল’ বানিয়ে ফেলার লক্ষ্যেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তারা বলছেন, এতে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের দায় এড়ানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিপূরণের অধিকারও উপেক্ষিত হচ্ছে।