বিবিসির অভ্যন্তরীণ এক নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ট্রাম্পের ভাষণের দুটি আলাদা অংশ একত্র করে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা দেখে মনে হয়েছিল তিনি সরাসরি তার সমর্থকদের ক্যাপিটল ভবনে হামলা করতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং সংবাদ প্রধান ডেবোরাহ টারনেস পদত্যাগ করেছেন। বিদায়ী বার্তা প্রধান টারনেসের দাবি, প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবিসি পক্ষপাতদুষ্ট নয়।
বিতর্ক শুরু হয় ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফে প্রকাশিত একটি স্মারকলিপি থেকে। সেখানে বিবিসির সম্পাদকীয় মানদণ্ড, গাজা যুদ্ধ কভারেজে পক্ষপাত, ট্রাম্পবিরোধী মনোভাব এবং ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে একপেশে প্রতিবেদনসহ একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ স্বীকার করেছেন, তথ্যচিত্রটিতে “বিচার-বিবেচনাগত ত্রুটি” ছিল এবং সম্পাদিত অংশটি ভুল ধারণা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এ জন্য বিবিসি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করবে।
তবে শাহ জানান, স্মারকলিপিতে বলা কিছু অভিযোগ অতিরঞ্জিত এবং বিবিসি কোনো বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে ‘চাপা’ দেয়নি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই ৫০০-রও বেশি অভিযোগ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ট্রাম্পের আইনজীবী আলেহান্দ্রো ব্রিও বিবিসির বিরুদ্ধে “মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন” এবং ফ্লোরিডা আইনে মানহানির অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বিবিসির তথ্যচিত্রে ট্রাম্পের বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তিনি সহিংসতার ডাক দিয়েছিলেন।
মূল ঘটনাটি ছিল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি। সে সময় ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা ক্যাপিটলে যাব এবং আমাদের প্রতিনিধিদের উৎসাহ দেব।” কিন্তু প্যানোরামা অনুষ্ঠানে এই বক্তব্যের সঙ্গে ৫০ মিনিট পর দেওয়া আরেকটি মন্তব্য—“আমরা লড়াই করব”—একত্রে জুড়ে দেখানো হয়, যা তার বার্তা বিকৃত করে দেয় বলে অভিযোগ।
টিম ডেভি বলেছেন, সাম্প্রতিক বিতর্ক তার পদত্যাগের একমাত্র কারণ না হলেও সেটি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, “বিবিসি সামগ্রিকভাবে ভালো কাজ করছে, তবে কিছু ভুল হয়েছে, এবং এর দায় আমার।”
ডেবোরাহ টারনেসও জানান, বিবিসির সাংবাদিকরা নিরপেক্ষতার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। ভুল হতেই পারে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কাঠামোগতভাবে পক্ষপাতদুষ্ট নয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের মুখপাত্রও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন না যে বিবিসি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।
তবে রক্ষণশীল নেতা কেমি ব্যাডেনোচ মনে করেন, তথ্যচিত্রের ঘটনা বিবিসির ভেতরকার সমস্যার দিকটি স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—তার মতে, “ট্রাম্প ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে চাপে ফেলতে চান।”
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগেও সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস, সিবিএস নিউজসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত জুলাইয়ে সিবিএস এবং এর মূল কোম্পানি প্যারামাউন্ট ট্রাম্পের এক অভিযোগ মীমাংসা করতে ১৬ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করে।