রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কথা কাজ মিডিয়ায় নিয়মিত প্রচার হয়। সব কথা কাজ মানুষ মনে রাখে না। নেতাদের সারাজীবনের দু একটি কথা কিংবা কাজ মানুষের মনে এমনভাবে গেঁথে যায় যা মানুষ যুগ যুগে মনে রাখে। অনেক সময় অনেকের কথা বা কাজের প্রভাবে নেতাদের জীবনের গতিপথ পাল্টে যায়। কথার প্রভাবে কখনো দাঙ্গা বাঁধে, কখনো ক্ষমতায় আরোহণ করে,কখনো ক্ষমতা ছেড়ে পলায়ন করে।
যেমন শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের চুম্বক অংশ “ তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে”তার সেই ভাষনে উজ্জীবিত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়ে পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। কথাটি মানুষের মনে আজো গেঁথে আছে।
অপরদিকে ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ সিকদারকে হত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও দম্ভের সুরে বলেছিলেন "কোথায় আজ সেই সিরাজ সিকদার? অহংকারে ভরা মানুষ হত্যা করার এ কথাটি মানুষের মনে এমনভাবে আঘাত করেছিল যার ফলে মানুষ তাকে অহংকারী বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এমনকি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কিংবা তাকে স্বপরিবারে হত্যার পরিবেশ তৈরি করতে এ কথাটি বারুদের মত সহায়তা করেছিল।
পরিশেষে যখন হত্যাকারীরা তাকে স্বপরিবার হত্যা করে রেডিওতে ঘোষণা করে তখন কোন মানুষ তার প্রতি কোন শ্রদ্ধা শোক প্রদর্শন করেনি।
তেমনি শেখ হাসিনা সব ভাষনে/ বক্তৃতায় যুদ্ধের ৫০ বছর পরেও “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা” শব্দটি ব্যবহার করে স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের শক্তি বা রাজাকার মুক্তিযুদ্ধা দুই ভাগে দেশকে বিভক্ত করে। এতে রাস্তা ঘাট অফিস আদালত হাট-বাজারে মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব ঝগড়া ফ্যাসাদ মারামারি লাগতে থাকে। এমনকি ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি শুরু হয়,আত্বীয় সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়।
সমাজের মানুষ রাজাকার মানে পাকিস্তান পন্থী আর মুক্তিযোদ্ধা মানে ভারত পন্থী বুঝায়ে বাংলাদেশ দুইভাগে বিভক্ত করে। অথচ বাংলাদেশ পন্থী হিসেবে কাউকে পাওয়া যায়না ।
রাজাকারের চেতনা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শুনতে শুনতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠে,ফলে সচেতন মানুষের মধ্যে শেখ হাসিনার প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য সবাই পথ খুঁজতে থাকে।
অবশেষে ছাত্রদের চাকরির কোঠা আন্দোলনকে থামাতে ব্যর্থ হয়ে রাগে ক্ষোপে হিংসায় ক্ষিপ্ত হয়ে “ রাজাকারের নাতিপুতি চাকরি পাবে”মর্মে হুমকি দেয়। এতে ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে তিব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকলে সাধারণ মানুষ তাতে সমর্থন জানায় এবং দলে দলে ছাত্রদের সাথে যোগদান করে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পরলে জীবনের ভয়ে শেখ হাসিনা এবং তার সমস্ত সহকর্মী দেশ থেকে একসাথে পালিয়ে ভারতে যেতে বাধ্য হন।
যাওয়ার সময় দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কর্মীদের কি হবে সে কথা ভাবতে পারেননি । অপরদিকে বিনা ভিসায় সবাই ভারতে পালিয়ে গিয়ে নিজে নিজেই দলটাকে ভারত পন্থী দল হিসাবে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেন।
তাই তো বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তি নাটকের শেষ ডায়ালক “অবশেষে হৈমন্তি মরিয়া প্রমান করিলেন যে হৈমন্তি মরে নাই” ।
ভবিষ্যতে হয়তো আবার ফিরে এসে একই ধারায় বাংলাদেশীদের পাকিস্তান পন্থী বলে গালি দেবেন। কিন্তু নিজেদের কোন পন্থি বলে পরিচয় দিবেন? সেটাও ভাবা উচিত কারন এদেশের মানুষের তো পাকিস্তান পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই হয়তো তাদের পাকিস্তান পন্থী বলে সরাসরি প্রমান করা কঠিন হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও বাংলাদেশ পন্থী বলে কাউকে সমর্থন না দিয়ে স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অপচেষ্টা অবশ্যই ঘৃণ চেষ্টা। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদাকে সম্মান জানাতে অবশ্যই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ভারত বা পাকিস্তান পন্থী তকমা থেকে বের হতে হবে। সবাইকে বাংলাদেশ পন্থী পরিচিত করতে হবে।
আর নেতাদের কথা বলার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সে কথার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। নইলে ইতিহাস তার নিজ নিয়মে নেতাদের কথা কাজের প্রতিশোধ নিবে। মন্দের চেয়ে মন্দ স্থানে নামিয়ে দিবে।
ধন্যবাদ
লেখক: মুহাম্মদ ইয়ার আলী, স্বত্বাধিকারী, আলীবাবা থিম পার্ক।
তরুণদের হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য বাজেট বাড়ানোর আহ্বান : বিশ্ব হার্ট দিবসে ওয়েবিনারে বক্তারা
৭ ঘন্টা আগে
রংপুরে বাবা হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ছেলে গ্রেফতার
১০ ঘন্টা আগে