মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

এলপিজির দাম ২ হাজার ছাড়াল, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ


প্রকাশ : (১৭ ঘন্টা আগে)
এলপিজির দাম ২ হাজার ছাড়াল, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

 দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এর সুযোগে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। ফলে খুচরা বাজারে সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোক্তারা।

বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্র জানায়, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে আমদানির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু বাজারে সেই দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

আমদানিকারকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার এই সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনীয় কার্গো পাওয়া। আগে একটি নৌপথে সমস্যা হলে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হতো। এখন সেই সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে।

তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকার পরও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে বাড়তি খরচ সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। লোকসান এড়াতে কিছু আমদানিকারক আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদকদের কাছ থেকেও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো দেশে না পৌঁছানোয় সেপ্টেম্বরে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা দ্রুত না কাটলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এলপিজির সংকট অব্যাহত থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

**ইত্তেফাক/আইএ**

বিজ্ঞাপন