রংপুরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন,প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও বিএনপির নেতা রাশেদ খাঁনের কাজই হচ্ছে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কথা বলা।রাশেদ খান তো বিশেষ কোটায় সহকারী হয়েছেন, তার এই পদের ব্যাপারে আমরা সন্দিহান। তার কাছেও জিজ্ঞাসা করলে সম্ভবত তিনি তার পদের আসলে কী কাজ, সেটার উত্তর দিতে পারবেন না। তার একমাত্র কাজ হচ্ছে জামায়াত এবং শিবিরের বিরুদ্ধে নেগেটিভ কথাগুলো বলা অথবা যা-ই হোক না কেন,পজিটিভ সেটাকে নেগেটিভভাবে উপস্থাপন করা।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর রূপকথা থিমপার্ক কনভেনশন সেন্টারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ছাত্রশিবির আয়োজিত 'নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন' অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।এর আগে একই দিন রংপুরে এসে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ ও বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে নানা অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই সাংবাদিকরা তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের লং মার্চ প্রসঙ্গে শিবির সভাপতি বলেন, শুধু জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। সাত দফা দাবির মধ্যে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন, সিটি করর্পোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরির দাবিও রয়েছে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, চারদিকে যে খুন ও হত্যাযজ্ঞ চলছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাযজ্ঞ চলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চরম অবনতি এসবের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, সেটাও আমাদের দাবি।দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং জুলাই গণভোটের রায় ও জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
লং মার্চে জ্বালানি তেল ব্যবহারের সমালোচনা প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এ ধরনের বক্তব্য আন্দোলন থেকে সরানোর অপচেষ্টা। বিরোধী দল নিজেদের অর্থায়নে কর্মসূচি পালন করছে এবং এতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ রয়েছে।প্রতিবাদের উদ্দেশ্যটা কী সেই উদ্দেশ্য নিয়ে মূলত আলোচনা হওয়া দরকার এবং সরকার মহলে সেটা নিয়ে কথা বলা উচিত। কিন্তু দৃষ্টি ফেরানোর জন্য জ্বালানি তেল, হাবিজাবি এসব কথা বলা হচ্ছে।
বিএনপির সঙ্গে ছাত্রশিবিরের অবস্থান প্রসঙ্গে বলেন, জুলাই চার্টার ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে শুরু থেকেই তাদের অবস্থান রয়েছে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল দাবি ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার। বিএনপি এ ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে।বিরোধী দল বা এগারো দল যে কর্মসূচি পালন করছে, ইসলামী ছাত্রশিবির তাতে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিরোধী দলের সঙ্গে থাকার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
বিরোধী দলগুলোর সাত দফা দাবি সরকার বাস্তবায়ন করছে রাশেদ খাঁনের এমন বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন করা হলে লং মার্চের প্রয়োজন হতো না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেই আন্দোলন চলছে।
বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে শিবির সভাপতি দাবি করে বলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় বিএনপি নির্বাচনে সুবিধা পেয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি যেসব বক্তব্য ও উদাহরণ দিয়েছেন, সেগুলোকে তিনি নিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
এ সময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।