বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

তিস্তার নতুন চ্যানেলে ভাঙনে বাড়িভিটা নদীগর্ভে


প্রকাশ : (১ দিন আগে)
তিস্তার নতুন চ্যানেলে ভাঙনে বাড়িভিটা নদীগর্ভে

তিস্তা নদীতে নতুন চ্যানেল সৃষ্টি হয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা চল্লিশসাল চরের তিনটি বাড়িভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরও শতাধিক বাড়িঘর। এরই মধ্যে ১০টি পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, আশ্বিন মাসে রংপুরে ভারী বৃষ্টিপাত না হলেও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানান, তিস্তার স্রোতে সড়ক সেতুর পাশ দিয়ে নতুন একটি চ্যানেল তৈরি হয়েছে। ওই চ্যানেল দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় জয়রাম ওঝা চল্লিশসাল চরের ঘরবাড়ি, যোগাযোগের রাস্তা ও ফসলি জমিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। মতিয়ার রহমান, নুরুজ্জামান ও আশেকুল ইসলামের বাড়িভিটা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে একটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ।

চল্লিশসাল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোন্নাফ বলেন, তিস্তা নদী বালুতে ভরাট হয়ে গেছে। উজান থেকে পানি এলে নদী তা ধরে রাখতে পারে না। ফলে পানি বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়। এবার তাদের বাড়ির পাশ দিয়েও নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় বাড়ি নদীতে চলে যেতে পারে। তাই দ্রুত ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

মতিয়ার রহমান বলেন, তার বাড়িভিটা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে বাড়ির চাল রাস্তায় রেখে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো না বলে তিনি দাবি করেন।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, নতুন চ্যানেল দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনটি বাড়িভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন